বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর অভিনেত্রী রূপঞ্জনা মিত্র (Rupanjana Mitra)-র কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক জল্পনা। কখনও তিনি Mamata Banerjee-র লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন, আবার কখনও বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)-র মন্তব্য শেয়ার করেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছিল, তিনি কি আবার বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন? অবশেষে সেই জল্পনা নিয়েই মুখ খুললেন অভিনেত্রী।
রূপাঞ্জনার কথায়, “আমাকে কদর্য আক্রমণ করা হচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বর্তমানে কোনও রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য হতে চান না। তাঁর বক্তব্য, “আমার সন্তান আছে। পরিবারও চায় না আমি আর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকি।”
অভিনেত্রী জানান, রাজনীতির সঙ্গে তাঁর যাত্রা মূলত মতাদর্শের টানাপোড়েন থেকেই শুরু হয়েছিল। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। সেই সময় তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। পরে শিল্প জগতের নানা সমস্যা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে ধীরে ধীরে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিলেন।
রূপাঞ্জনার দাবি, ২০১৪ সালের পর থেকে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় শিল্পীদের। পারিশ্রমিক বকেয়া থাকা থেকে শুরু করে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। সেই সময় বিজেপি তাঁকে দলে টানতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত যোগও দেন তিনি। তবে সেখানে গিয়েও হতাশ হন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
তাঁর কথায়, “ইন্ডাস্ট্রির যে সমস্যা তার কোনও সমাধানের পথ দেখছিলাম না। এরা আসলে এমন লোক চাইছিল, যারা শুধু রাজনীতিটাই করবে। ঘৃণার রাজনীতি করতে চাইছিল ওরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্নাম করতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু ওঁর সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক। আমাকে তিনি কখনও অসম্মান করেননি।”
বিজেপির রাজনীতি থেকে কেন সরে এলেন, সেই প্রসঙ্গেও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন রূপাঞ্জনা। তিনি বলেন, “ওদের উগ্র রাজনীতির সঙ্গে মেলাতে পারছিলাম না। আমি সুস্থ সমাজে থাকতে চাই, যেখানে ধর্ম নিয়ে বিভাজন করা হবে না।”
২০২৫ সালে তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তা নিয়েও কম কটাক্ষ শুনতে হয়নি। যদিও অভিনেত্রীর দাবি, কোনও রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে তিনি কখনও টাকা নেননি। তাঁর কথায়, “পরে দেখলাম, মমতাদি মানুষ হিসাবে অনেক ভাল।”
তবে এত কিছুর পরেও বাংলার রাজনীতিতে আর ফিরতে চান না রূপাঞ্জনা। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, “বাংলার রাজনীতিতে আমি আর থাকছি না। দেখে নিয়েছি বঙ্গ রাজনীতি। আর নয়।”
যদিও জাতীয় স্তরে রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি অভিনেত্রী। একই সঙ্গে নতুন সরকারকে নিয়েও আশাবাদী তিনি। বিশেষ করে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়ে বিজেপির প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। আর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অভিনেতা-রাজনীতিক রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)-কেও। তাঁর কথায়, “সবচেয়ে বেশি শুভেচ্ছা জানাব রুদ্রনীল ঘোষকে। অনেক লড়াই করে এই জায়গায় এসেছে ও। ওর ভাল চাই।”







