দেশজুড়ে জনগণনার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জনগণনার সময় ঠিক কী তথ্য দিতে হবে, কোন নথি দেখাতে হবে এবং ব্যক্তিগত তথ্য কতটা দিতে হবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এই বিষয়ে আধিকারিকদের তরফে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জনগণনার সময় কোনও নাগরিককে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য দিতে হবে না।
কোনও ব্যাঙ্কের তথ্য দিতে হবে না
জনগণনার কাজে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া হবে না। অর্থাৎ অ্যাকাউন্ট নম্বর, IFSC কোড, ATM বা ডেবিট কার্ডের নম্বর, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের পাসওয়ার্ড, PIN, OTP কিংবা অ্যাকাউন্টে কত টাকা রয়েছে, এই ধরনের কোনও তথ্যই জনগণনার আধিকারিককে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তবে কোনও ব্যক্তির নামে মোট কতগুলি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেই তথ্য জনগণনার প্রশ্নমালায় জানতে চাওয়া হতে পারে। এর সঙ্গে ব্যাঙ্কের গোপন বা আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।
কোন নথি লাগতে পারে
জনগণনার সময় পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য আধার কার্ড বা ভোটার কার্ডের মতো নথি প্রয়োজন হতে পারে। তবে কোন ক্ষেত্রে ঠিক কোন নথি প্রয়োজন হবে, তা জনগণনার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও আধিকারিকের নির্দেশ অনুযায়ী জানানো হবে।
অন্যদিকে জনগণনার কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তাঁদের QR কোডযুক্ত পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে কোনও আধিকারিক এলে সেই QR কোড স্ক্যান করে তাঁর পরিচয় যাচাই করে নিতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে
স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে জনগণনার জন্য ৪০টি প্রশ্নের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা পরিবারগুলির কাছ থেকে এই প্রশ্নগুলির উত্তর সংগ্রহ করবেন।
এই তথ্যের মাধ্যমে দেশের মোট জনসংখ্যা, মানুষের জীবনযাত্রা এবং আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাবে। ফলে জনগণনার সময় আধিকারিকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি পরিবারের সদস্যরা লিখে প্রস্তুত রাখতে পারেন। এতে ভুল তথ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও কমবে।
প্রতারকদের থেকে সাবধান
জনগণনার নাম করে প্রতারণার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই বাড়িতে কেউ জনগণনার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে এলেও কোনওভাবেই আর্থিকভাবে সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া উচিত নয়।
বিশেষ করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, ATM বা ডেবিট কার্ড নম্বর, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের পাসওয়ার্ড, UPI PIN কিংবা OTP কাউকে দেওয়া যাবে না। একইভাবে কোনও ব্যাঙ্ক লেনদেনের গোপন তথ্যও শেয়ার করা উচিত নয়।
কোনও সন্দেহ থাকলে প্রথমে আধিকারিকের পরিচয় যাচাই করুন। QR কোডযুক্ত পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার পরই জনগণনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নিরাপদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, জনগণনার কাজে তথ্য দেওয়ার সময় ব্যাঙ্কের PIN, OTP বা পাসওয়ার্ডের মতো গোপন তথ্য চাওয়া হলে সতর্ক হতে হবে।







