রাজ্যের অন্নপূর্ণা প্রকল্প ঘিরে আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে নানা প্রশ্নও। বিশেষ করে একই পরিবারের একাধিক মহিলা সদস্য এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বহু মানুষের মধ্যে সংশয় রয়েছে। জনকল্যাণ শিবিরগুলিতেও এই প্রশ্নই সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে একই পরিবারের একাধিক মহিলা আবেদন করতে বাধা নেই। অর্থাৎ কোনও পরিবারে শাশুড়ি এবং বৌমা—উভয়েই যদি বয়স ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করেন, তাহলে তাঁরা পৃথকভাবে আবেদন জানাতে পারবেন।
অন্নপূর্ণা প্রকল্পের আওতায় আবেদনকারীর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। পাশাপাশি তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। প্রশাসনের বক্তব্য, আবেদনকারীর ব্যক্তিগত যোগ্যতাই এখানে মূল বিষয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা নয়।
সরকারি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কোনও যৌথ পরিবারের অন্তর্গত দুই বিবাহিত দম্পতি যদি আলাদা রেশন কার্ড এবং পৃথক নথিপত্রের ভিত্তিতে স্বতন্ত্র পরিবার হিসেবে নথিভুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁদের পরিবারের যোগ্য মহিলা সদস্যেরাও পৃথকভাবে এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
তবে আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মানা বাধ্যতামূলক। প্রকল্পের টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে পাঠাতে আধার সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা জরুরি। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) ব্যবস্থা সক্রিয় না থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে যৌথ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য নয় বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। আবেদনকারী মহিলার নামে পৃথক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। স্বামী বা অন্য কোনও পরিবারের সদস্যের সঙ্গে যৌথ অ্যাকাউন্ট থাকলে আবেদন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, সমস্ত আবেদন ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই করা হবে। জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় স্তরে তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। একই আধার নম্বর ব্যবহার করে একাধিক জায়গা থেকে আবেদন জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট আবেদন বাতিল হওয়ার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
সরকারের দাবি, প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছে দিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কঠোর যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ফলে আবেদন করার আগে সমস্ত নথি এবং যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রশাসনিক কর্তারা।






