উৎসবের মরসুমে বড় অঙ্কের কেনাকাটার আগে ডিজিটাল পেমেন্ট নিয়ে নতুন করে হিসাব করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ২,০০০ টাকার বেশি মূল্যের ইউপিআই মার্চেন্ট পেমেন্টে ০.৪ শতাংশ হারে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর কার্যকর হবে। ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি লেনদেনে এই মাশুলের সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ টাকা। তবে এই খরচ সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া যাবে না।
অর্থাৎ, কোনও দোকানে ১০ হাজার টাকার কেনাকাটা করে ইউপিআইয়ে পেমেন্ট করলে ৪০ টাকা এমডিআর দিতে হবে ব্যবসায়ীকে। ৫০ হাজার টাকার লেনদেনে সেই অঙ্ক হবে ২০০ টাকা। ৭৫ হাজার টাকা পেরোলেই সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে মাশুল। তবে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির ইউপিআই লেনদেন আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্যও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে।
ফলে গ্রাহকের দিক থেকে ইউপিআই ব্যবহারের খরচ আপাতত বাড়ছে না। নতুন নিয়মে এমডিআরের দায় ব্যবসায়ীর। ব্যাঙ্ক ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারীদেরও এই খরচ গ্রাহকের ঘাড়ে চাপাতে নিষেধ করা হয়েছে। ফলে পুজোর কেনাকাটায় ইউপিআই ব্যবহার করলে শুধুমাত্র এই নতুন নিয়মের কারণে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না।
ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রেও মার্চেন্টকে সাধারণত পেমেন্ট প্রসেসিংয়ের খরচ বহন করতে হয়। তবে ব্যবসায়ী বা নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম আলাদা সারচার্জ নিলে গ্রাহকের মোট খরচ বাড়তে পারে। পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে সুদ ও অন্যান্য চার্জের বোঝা তৈরি হতে পারে। তাই পুরস্কার পয়েন্ট বা ক্যাশব্যাকের সুবিধা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো বিল মেটানো গুরুত্বপূর্ণ।
অন্য দিকে, নেট ব্যাঙ্কিং বা এনইএফটি মূলত সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা স্থানান্তরের মাধ্যম। সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অনেক পরিষেবাই বিনামূল্যে পাওয়া যায়। তবে অ্যাকাউন্টের ধরন ও ব্যাঙ্কের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
তাই সাধারণ কেনাকাটার ক্ষেত্রে তিনটি মাধ্যমের খরচ এক নয়। ইউপিআইয়ে নতুন এমডিআর চালু হলেও তার সরাসরি দায় গ্রাহকের উপর পড়ছে না। ক্রেডিট কার্ডে সুবিধা মিলতে পারে পুরস্কার বা সুদেরহীন সময়ের মাধ্যমে, কিন্তু সময়মতো বিল না মেটালে খরচ বাড়তে পারে। আর নেট ব্যাঙ্কিং বেশি উপযোগী সরাসরি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে। অর্থাৎ কোন মাধ্যম সস্তা হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে লেনদেনের ধরন, অঙ্ক এবং সংশ্লিষ্ট পরিষেবার শর্তের উপর।






