এত শান্ত আটলান্টিক আগে দেখেনি বিশ্ব! এখনও নেই হ্যারিকেন, সামনে কি ভয়ঙ্কর বিপদ? চিন্তায় বিজ্ঞানীরা

On: Thursday, September 17, 2026 6:36 PM
---Advertisement---

আটলান্টিক মহাসাগর যেন আচমকাই থমকে গিয়েছে। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ শুরু হয়ে গেলেও এখনও এই বিশাল জলরাশিতে একটি হ্যারিকেনও তৈরি হয়নি। ২০২৬ সালের উত্তর অতলান্তিক হ্যারিকেন মরসুমে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি নামকরণযোগ্য ক্রান্তীয় ঝড় তৈরি হয়েছে, কিন্তু তার একটিও হ্যারিকেনের শক্তিতে পৌঁছয়নি। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান আধুনিক উপগ্রহ-নির্ভর পর্যবেক্ষণের যুগে নজিরবিহীন।

সাধারণত জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত অতলান্তিকে হ্যারিকেনের মরসুম চলে। এর মধ্যে অগস্ট থেকে অক্টোবরই সবচেয়ে সক্রিয় সময়। ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী, একটি গড় মরসুমে অতলান্তিকে প্রায় ১৪টি নামকরণযোগ্য ঝড় তৈরি হয়। তার মধ্যে গড়ে সাতটি হ্যারিকেন এবং প্রায় তিনটি বড় হ্যারিকেনে পরিণত হয়।

কিন্তু এ বার সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পেরিয়েও সেই স্বাভাবিক ছবির দেখা নেই। ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটি হ্যারিকেনও তৈরি না হওয়ায় ১৯৬৬ সালে আধুনিক উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে দেরিতে প্রথম হ্যারিকেন তৈরির নজির। এমনকি ১৯০৭ ও ১৯১৪ সালের মতো পুরনো মরসুমে হ্যারিকেনহীন সময়ের নজির থাকলেও তখনকার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বর্তমানের মতো উন্নত ছিল না।

এখন প্রশ্ন, অতলান্তিক এতটা শান্ত কেন?
আবহবিদদের অন্যতম ব্যাখ্যা শক্তিশালী এল নিনো। প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি এই জলবায়ুগত পরিস্থিতি বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক প্রবাহে বড়সড় পরিবর্তন ঘটায়। অতলান্তিকের উপর উল্লম্ব বায়ুপ্রবাহের তারতম্য বা vertical wind shear বেড়ে গেলে সদ্য তৈরি হওয়া ঝড়ের সংগঠন ভেঙে যেতে পারে। ফলে ঝড় শক্তি সঞ্চয় করে হ্যারিকেনে পরিণত হওয়ার সুযোগ পায় না। NOAA-ও এ বছরের পূর্বাভাসে এল নিনোর প্রভাবকে অতলান্তিকের ঝড়ের কার্যকলাপ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

শুধু বায়ুপ্রবাহ নয়, শুষ্ক বাতাস এবং নিম্নমুখী বায়ুপ্রবাহও ঝড় তৈরির পরিবেশকে প্রতিকূল করে তুলছে বলে আবহবিদেরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে আফ্রিকা থেকে ক্যারিবিয়ান পর্যন্ত অতলান্তিকের প্রধান ঝড়-সৃষ্টির অঞ্চলে শক্তিশালী wind shear ঘূর্ণিঝড়ের বিকাশে বাধা দিচ্ছে।

এ বছরের পরিস্থিতি অবশ্য একেবারে ঝড়শূন্য নয়। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অতলান্তিকে পাঁচটি নামকরণযোগ্য ক্রান্তীয় ঝড় তৈরি হয়েছে। কিন্তু কোনওটিই হ্যারিকেনে পরিণত হয়নি। NOAA-র হিসাব অনুযায়ী, এই সময় পর্যন্ত সিজনের Accumulated Cyclone Energy বা ACE মাত্র ৪.৪, যা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের স্বাভাবিক মানের তুলনায় প্রায় ৯৪ শতাংশ কম।

অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের ছবি সম্পূর্ণ আলাদা। এল নিনোর প্রভাবে পূর্ব ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে ঝড়ের কার্যকলাপ তুলনামূলক ভাবে বেশি। অর্থাৎ এক মহাসাগরে অস্বাভাবিক নিস্তব্ধতা, অন্যটিতে বাড়তি সক্রিয়তা একই বৃহত্তর জলবায়ুগত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

তবে এই শান্ত পরিস্থিতিকে পুরোপুরি স্বস্তির খবর হিসেবেও দেখছেন না বিজ্ঞানীরা। কারণ হ্যারিকেন মরসুম এখনও শেষ হয়নি। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অতলান্তিকে ঝড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। উষ্ণ সমুদ্রের জল এবং অনুকূল স্থানীয় পরিবেশ তৈরি হলে মরসুমের শেষ দিকেও দ্রুত শক্তিশালী ঝড় গড়ে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক পূর্বাভাসেও অতলান্তিককে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বলা হয়নি।

আরও বড় প্রশ্ন রয়েছে ২০২৭ সালের মরসুম নিয়ে। এল নিনো দুর্বল হয়ে গেলে অতলান্তিকের তুলনামূলক উষ্ণ সমুদ্রের জল আবার হ্যারিকেন তৈরির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ এ বছরের অস্বাভাবিক শান্তি ভবিষ্যতের ঝড়ের ঝুঁকি সম্পর্কে আত্মতুষ্টির কারণ নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ুগত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে এই ব্যতিক্রমী মরসুমকে আরও নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজন রয়েছে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now