বিশ্বকর্মা পুজোর আগেই বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্তের চোখরাঙানি, নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা

On: Wednesday, September 16, 2026 4:18 PM
---Advertisement---

বিশ্বকর্মা পুজোর আর মাত্র দু’দিন। তার পরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে জোরকদমে। উৎসবের মরশুমের আগে অবশ্য বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১৭ অথবা ১৮ সেপ্টেম্বর আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। অনুকূল পরিস্থিতি পেলে পরবর্তী সময়ে সেটি শক্তি সঞ্চয় করে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে ওই এলাকায় ঘূর্ণাবর্ত তৈরির মতো পরিবেশ রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ৩০ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাধারণত নিম্নচাপ তৈরির জন্য প্রায় ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রাই যথেষ্ট। ফলে উষ্ণ সমুদ্র এই সিস্টেমকে শক্তি জোগাতে পারে।

সমুদ্রের উপর অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকলে ঘূর্ণাবর্তটি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয়বাষ্প এবং দক্ষিণ পশ্চিম দিকের আর্দ্র বাতাসও সিস্টেমটির শক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা নিতে পারে।

প্রাথমিক পূর্বাভাস বলছে, ১৮ অথবা ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণাবর্তটি নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। এরপর উত্তর উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে সেটি উত্তর মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে যেতে পারে। ২১ সেপ্টেম্বর নাগাদ সেখানে সিস্টেমটি আরও শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এলাকায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তবে তার আগে সিস্টেমটিকে একাধিক পর্যায় পেরতে হবে। তাই এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বরের পর সিস্টেমটির গতিপথ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সেই সময় এটি কলকাতা থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পুরী থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থান করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।

তবে সিস্টেমটির শক্তি বৃদ্ধির পথে একটি বাধাও রয়েছে। বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে বাতাসের গতি ও দিকের পার্থক্য বা উইন্ড শিয়ার মাঝারি মাত্রায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ঘূর্ণাবর্ত বা পরবর্তী নিম্নচাপের শক্তি বৃদ্ধিতে কিছুটা বাধা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকায় সিস্টেমটি শক্তি ধরে রাখার জন্য অনুকূল পরিবেশ পেতে পারে।

সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক দিন বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বরের পর পাওয়া নতুন আবহাওয়ার তথ্য থেকেই বোঝা যাবে, সিস্টেমটি কোন দিকে এগোবে এবং শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী হবে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now