তথ্যপ্রযুক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে যখন ছাঁটাই এবং নিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি দেখা যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে। ভারতে এআই জানা পেশাদারদের বেতন বৃদ্ধির হার নজিরবিহীন ভাবে বেড়েছে। অনলাইন নিয়োগ সংস্থা ফাউন্ডইট ইনসাইটস ট্র্যাকার বা এফআইটি-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দু’বছরে ভারতে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের বেতন কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। এআই দক্ষতার চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই ক্ষেত্রের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির হারও বেড়েছে। প্রথম দিকে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ১০ শতাংশ। পরে তা ১২ শতাংশে পৌঁছয় এবং সর্বশেষ হিসাবে ২৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটাই এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার বলে দাবি রিপোর্টে।
এআইয়ের পরেই সেমিকন্ডাক্টর
বেতন বৃদ্ধির নিরিখে এআইয়ের পরেই রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প। এই ক্ষেত্রে কর্মীদের বেতন বছরে গড়ে প্রায় ৯ শতাংশ হারে বেড়েছে। অন্য দিকে, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং ই কমার্স ক্ষেত্রে গত দু’বছরে বেতন কাঠামোয় নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও সামগ্রিক ভাবে বেতন বৃদ্ধিতে স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এফআইটির সিইও তরুণ সিন্হার মতে, শুধুমাত্র অভিজ্ঞতা থাকলেই এখন আর উচ্চ বেতন নিশ্চিত হচ্ছে না। নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দক্ষতার গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা বাড়ায় তাঁদের পারিশ্রমিকও উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শুরুতেই এআই পেশাদারদের বেতন বেশি
রিপোর্টে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকা এআই পেশাদারদের মধ্যেও বেতনে বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তাঁদের বার্ষিক বেতন প্রায় ৮.৮৭ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ১৫.৪১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ১৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা থাকা এআই পেশাদারদের বার্ষিক বেতন প্রায় ৭০.৯৯ লক্ষ থেকে ৮৯.২৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইটি কর্মীদের সঙ্গে কতটা পার্থক্য
এআই এবং প্রচলিত তথ্যপ্রযুক্তি পেশার বেতনের মধ্যে পার্থক্যটিও যথেষ্ট বড়। রিপোর্ট অনুযায়ী, একজন তথ্যপ্রযুক্তি পেশাদার কর্মজীবনের শুরুতে বছরে প্রায় ২.৬৮ লক্ষ থেকে ৫.০৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতন পেতে পারেন। অর্থাৎ একই পর্যায়ে এআই দক্ষ কর্মীদের সম্ভাব্য বেতনের তুলনায় তা অনেকটাই কম।
১৫ বছরের অভিজ্ঞতার পরেও তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের বার্ষিক বেতন প্রায় ৫৭.৫৫ লক্ষ থেকে ৭২.১৩ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকে। একই অভিজ্ঞতার এআই পেশাদারদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ বেতনের তুলনায় সেটিও কম।
আইটির মধ্যেও বেতনে বড় ফারাক
তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের প্রতিটি শাখায় অবশ্য বেতন বৃদ্ধির হার একই নয়। গত দু’বছরের হিসাবে কম্পিউটার এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে কর্মীদের বেতন গড়ে প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। ডেটা মাইনিংয়ের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৭ শতাংশ।
সবচেয়ে কম বেতন বৃদ্ধি হয়েছে সফ্টওয়্যার পেশায়। গত দু’বছরে এই ক্ষেত্রের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির হার মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে একই তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের মধ্যেও নির্দিষ্ট দক্ষতার চাহিদা অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে শুধু অভিজ্ঞতা নয়, নির্দিষ্ট এবং ভবিষ্যতমুখী দক্ষতাই এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে এআই-এ দক্ষ পেশাদারদের চাহিদা বাড়ায় তাঁদের জন্য তৈরি হচ্ছে তুলনামূলক ভাবে বেশি বেতনের সুযোগ।






