বর্তমানে স্মার্টফোনে শুধু ফোন নম্বর বা ছবি নয়, ব্যাঙ্কিং তথ্য, ইউপিআই, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। ফলে ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে আর্থিক ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঞ্চার সাথী পোর্টাল ও অ্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
টেলিযোগাযোগ দফতরের উদ্যোগে চালু হওয়া সঞ্চার সাথীর মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া মোবাইলের বিষয়ে অভিযোগ জানানো যায়। পাশাপাশি চুরি যাওয়া ফোনের অপব্যবহার বন্ধ করার ব্যবস্থাও রয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে।
এই পরিষেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল সিইআইআর বা সেন্ট্রাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার। প্রতিটি মোবাইল ফোনের একটি আলাদা আইএমইআই নম্বর থাকে। সেই নম্বরের সাহায্যেই নেটওয়ার্কে নির্দিষ্ট ডিভাইসটিকে শনাক্ত করা সম্ভব।
ফোন চুরি বা হারিয়ে গেলে সিইআইআর ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটি ব্লক করার আবেদন করা যায়। সাধারণত এজন্য ফোনের আইএমইআই নম্বর, ডিভাইস সংক্রান্ত তথ্য এবং থানায় করা অভিযোগ বা ডায়েরির কপি প্রয়োজন হয়। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আইএমইআই নম্বর নেটওয়ার্কে ব্লক করা যায়।
ফলে চোর ফোনটিতে নতুন সিম কার্ড ঢোকালেও সেটি মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহার করতে পারবে না। তবে সঞ্চার সাথী নিজে ফোন উদ্ধার করে ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে দেয় না। ফোন শনাক্ত ও উদ্ধারের ক্ষেত্রে সিইআইআর ব্যবস্থার পাশাপাশি পুলিশের তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্লক করা ফোনে নতুন সিম ব্যবহার করে নেটওয়ার্কে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা হলে ডিভাইস ও সংযোগ সংক্রান্ত তথ্য তদন্তের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ফোনটির অবস্থান শনাক্ত করে উদ্ধারের চেষ্টা করতে পারে। ফোন উদ্ধার হয়ে গেলে সিইআইআর পোর্টালের মাধ্যমে সেটি আনব্লক করার আবেদন করা যায়।
ফোন হারানোর পর শুধু সিইআইআরে রিপোর্ট করলেই হবে না। দ্রুত ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ফোনে ব্যাঙ্কিং অ্যাপ বা ইউপিআই পরিষেবা ব্যবহার করা থাকলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডও পরিবর্তন করে নেওয়া উচিত।
এর পাশাপাশি নিকটবর্তী থানায় ফোন হারানো বা চুরির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ বা ডায়েরি করা প্রয়োজন। পরবর্তী সময়ে সিইআইআরে ব্লক করার আবেদন করার ক্ষেত্রেও এই অভিযোগের নথি প্রয়োজন হতে পারে।
ফোনের আইএমইআই নম্বর আগে থেকেই সংরক্ষণ করে রাখা তাই অত্যন্ত জরুরি। ফোনের প্যাকেজিং বক্স, কেনার বিল বা পুরনো ডিভাইস সংক্রান্ত নথিতে সাধারণত এই নম্বর পাওয়া যায়। ডুয়াল সিমের ফোন হলে সাধারণত দুটি আলাদা আইএমইআই নম্বর থাকে। তাই দুটিই নিরাপদ জায়গায় লিখে বা সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।
ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর দ্রুত থানায় অভিযোগ করা, সিইআইআরের মাধ্যমে ডিভাইস ব্লক করা এবং ব্যাঙ্কিং ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করাই হতে পারে ক্ষতির ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।







