স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা SBI-এর BSBD অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন? তাহলে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে টাকা তোলার নিয়মে নজর রাখা জরুরি। Basic Savings Bank Deposit বা BSBD অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ফ্রি ক্যাশ উইথড্রয়ালের হিসাবের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে ব্যাঙ্ক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক লেনদেনের পর টাকা তুললে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হতে পারে।
নতুন নিয়মে কী বদলাচ্ছে?
১ অক্টোবর থেকে BSBD অ্যাকাউন্টের গ্রাহকরা প্রতি মাসে মোট ৪টি পর্যন্ত ফ্রি ক্যাশ উইথড্রয়াল করতে পারবেন। এই সীমা পেরিয়ে গেলে প্রতিটি অতিরিক্ত উইথড্রয়ালের জন্য ১৫ টাকা এবং তার সঙ্গে GST দিতে হবে।
তবে নিয়ম পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এই চারটি লেনদেনের হিসাব এবার আরও বিস্তৃতভাবে করা হবে। আগে যে ডিজিটাল লেনদেনগুলি মাসিক ফ্রি উইথড্রয়াল সীমার বাইরে থাকত, নতুন নিয়মে সেগুলিও হিসাবের মধ্যে আসবে।
অর্থাৎ SBI-এর ATM, অন্য ব্যাঙ্কের ATM কিংবা ব্যাঙ্কের শাখা থেকে নগদ টাকা তোলার পাশাপাশি AEPS-এর মতো ডিজিটাল লেনদেনও মাসিক চারটি ফ্রি উইথড্রয়ালের সীমার মধ্যে গণনা করা হবে।
চারবারের পর কত টাকা চার্জ?
মাসে চারটি ফ্রি উইথড্রয়ালের সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর কোনও অতিরিক্ত ক্যাশ উইথড্রয়াল করলে প্রতিবার ১৫ টাকা চার্জ নেওয়া হবে। এর সঙ্গে প্রযোজ্য GST-ও যোগ হবে। ফলে নিয়মিত ছোট অঙ্কের টাকা তোলেন এমন BSBD অ্যাকাউন্টধারীদের জন্য এই পরিবর্তনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কেন আলাদা এই BSBD অ্যাকাউন্ট?
Basic Savings Bank Deposit Account মূলত সাধারণ গ্রাহকদের জন্য তৈরি একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, অ্যাকাউন্টে কোনও ন্যূনতম ব্যালেন্স রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে যাঁরা কম খরচে প্রাথমিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবা পেতে চান, তাঁদের জন্য এই অ্যাকাউন্টটি তৈরি করা হয়েছে।
এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শাখায় উইথড্রয়াল ফর্ম ব্যবহার করে অথবা ATM থেকে টাকা তোলা যায়। গ্রাহককে একটি Basic RuPay ATM-cum-Debit Card-ও দেওয়া হয়। তবে BSBD অ্যাকাউন্টের সঙ্গে চেকবুকের সুবিধা থাকে না।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। SBI-তে BSBD অ্যাকাউন্ট থাকা অবস্থায় একই ব্যাঙ্কে অন্য কোনও সেভিংস অ্যাকাউন্ট রাখা যায় না। কেউ আগে থেকে SBI-এর সেভিংস অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে BSBD অ্যাকাউন্ট খোলার পর ৩০ দিনের মধ্যে পুরনো সেভিংস অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করতে হবে।
তাই SBI-এর BSBD অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে অক্টোবর থেকে ATM, শাখা এবং AEPS-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে করা লেনদেনের সংখ্যা হিসাব করে চলাই ভাল। বিশেষ করে মাসে বারবার টাকা তোলার অভ্যাস থাকলে অতিরিক্ত চার্জ এড়াতে নতুন নিয়মটি আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি।






