১৬ অগস্ট ‘আয়ুষ্মান দিবস’। সেই দিন থেকেই পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা। শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে দুই প্রকল্পের সুবিধা, কার্ড তৈরি, আবেদন এবং যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক তথ্য জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার-সহ স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা।
বিনামূল্যে মিলবে ডিজিটাল কার্ড
মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আওতায় থাকা প্রত্যেক পরিবারের সদস্যের জন্য পৃথক ডিজিটাল কার্ড দেওয়া হবে। কার্ড তৈরির জন্য আধারভিত্তিক যাচাই বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট ক্যাম্প বা পোর্টালের মাধ্যমে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিনামূল্যেই কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।
চিকিৎসা নিতে গেলে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আধার কার্ড এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কার্ড ব্যবহার করতে হবে।
কোন প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন, জানবেন কী ভাবে?
হাসপাতালে গিয়ে e-KYC করার সময় আধার নম্বর দিলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোন স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন, তা জানা যাবে। হাসপাতালগুলিতেও প্রয়োজনীয় ফর্ম রাখা থাকবে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে।
কারা পাবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুবিধা?
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় না থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁরা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুবিধা পেতে চান, তাঁদের যোগ্যতা যাচাই করা হবে। এর জন্য ইতিমধ্যেই সমীক্ষা চলছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফিল্ড ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে নথি ও যোগ্যতা খতিয়ে দেখা হবে।
যাঁরা নির্ধারিত সমস্ত শর্ত পূরণ করবেন, তাঁদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। আপাতত অফলাইনে প্রক্রিয়া চললেও দ্রুত অনলাইন আবেদনের ব্যবস্থাও চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এই প্রসঙ্গে শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমরা চাই না, কোনও বহিরাগত এই পরিষেবা পাক। অনেক বাংলাদেশের মানুষ আমাদের এখানে এসে আধার কার্ড পেয়েছেন, কিন্তু তারা আসলে বাংলাদেশের নাগরিক। এমন কেউ যাতে না ঢুকে পরে, সেই জন্যই ফিল্ড ভেরিফিকেশন করা হবে। আমাদের করের টাকায় অন্য দেশের কেউ চিকিৎসা পাবেন না।”
অন্য রাজ্যেও মিলবে চিকিৎসার সুবিধা
মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কার্ড ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও চিকিৎসার সুবিধা নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য পৃথক কার্ড থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের কার্ড ব্যবহার করেই এই সুবিধা নিতে পারবেন।
তবে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ক্ষেত্রে অন্য রাজ্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট করেছে রাজ্য।
এদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে সরকারি প্রকল্পের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারি বেডের জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণের ব্যবস্থা শীঘ্রই চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অর্থাৎ, ১৬ অগস্ট থেকে রাজ্যে স্বাস্থ্য বিমার ক্ষেত্রে নতুন পরিকাঠামো কার্যকর হতে চলেছে। আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আওতায় কারা পড়ছেন, তা নির্ধারণে আধারভিত্তিক e-KYC এবং মাঠপর্যায়ের যাচাইই হতে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।






