মাসে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তবে দীর্ঘমেয়াদে অল্প অল্প করে বিনিয়োগ করলে সেই টাকাই বড় তহবিলে পরিণত হতে পারে। মিউচুয়াল ফান্ডের SIP বা Systematic Investment Plan-এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এটিই। অনেক SIP-তে তুলনামূলক কম টাকা দিয়েও বিনিয়োগ শুরু করা যায়।
ধরা যাক, প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে SIP করছেন। তাহলে ৫ লক্ষ টাকার লক্ষ্য পূরণ করতে কতটা সময় লাগতে পারে? রিটার্নের হার অনুযায়ী সেই সময়ের হিসেব বদলে যাবে।
১০ শতাংশ রিটার্ন হলে সময় লাগবে সাড়ে ১৬ বছর
গড় বার্ষিক রিটার্ন ১০ শতাংশ ধরে হিসেব করলে মাসে ১,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ৫ লক্ষ টাকার তহবিল তৈরি করতে প্রায় ১৬ বছর ৬ মাস সময় লাগতে পারে।
এই সময়ে বিনিয়োগকারীর নিজের পকেট থেকে জমা পড়বে প্রায় ১.৯৮ লক্ষ টাকা। বাকি অংশ তৈরি হবে বিনিয়োগের উপর অর্জিত রিটার্ন এবং তার উপর পুনরায় রিটার্ন পাওয়ার মাধ্যমে।
১২ শতাংশ রিটার্নে ১৫ বছরেই লক্ষ্য
বার্ষিক গড় রিটার্ন ১২ শতাংশ হলে একই ৫ লক্ষ টাকার লক্ষ্য পূরণ করতে সময় আরও কমে প্রায় ১৫ বছর হতে পারে।
এই ক্ষেত্রে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১.৮০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার ফলে মূল বিনিয়োগের তুলনায় অনেকটাই বেশি অর্থ তহবিলে জমতে পারে।
১৫ শতাংশ রিটার্ন পেলে সময় আরও কম
বছরে গড়ে ১৫ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া গেলে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে SIP চালিয়ে প্রায় ১৩ বছর ৩ মাসে ৫ লক্ষ টাকার তহবিল তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
এই সময়ে বিনিয়োগকারীর মোট জমা পড়বে প্রায় ১.৫৯ লক্ষ টাকা। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন নিশ্চিত নয়। ১৫ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া সম্ভব হলেও বাজারের ওঠানামার কারণে বাস্তবে রিটার্ন কম-বেশি হতে পারে।
আসল শক্তি কম্পাউন্ডিংয়ের
SIP-এর ক্ষেত্রে প্রতিটি কিস্তি একই সময় বিনিয়োগ করা থাকে না। আগের কিস্তিগুলি দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে থাকার সুযোগ পায়। ফলে সেই বিনিয়োগের উপর অর্জিত রিটার্নও পরবর্তী সময়ে রিটার্ন তৈরিতে সাহায্য করে। দীর্ঘমেয়াদে এই কম্পাউন্ডিংয়ের প্রভাবেই ছোট অঙ্কের নিয়মিত বিনিয়োগ বড় তহবিলে পরিণত হতে পারে।
তবে এই হিসেবগুলি সম্ভাব্য রিটার্নের ভিত্তিতে করা। মিউচুয়াল ফান্ড বাজার-নির্ভর বিনিয়োগ হওয়ায় নির্দিষ্ট রিটার্নের নিশ্চয়তা নেই। তাই বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং বিনিয়োগের সময়সীমা বিবেচনা করা জরুরি।






