ভারতে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট চালুর জল্পনা এবার আরও জোরালো হল। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) জানিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী অর্থবর্ষের শুরু থেকেই দেশে পলিমার নোটের পাইলট প্রকল্প চালু করা হতে পারে।
বুধবার আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ টাকা এবং ২০ টাকার পলিমার নোট বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের ফলাফল সন্তোষজনক হলে ভবিষ্যতে বড় মূল্যমানের নোটেও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে।
তবে নতুন পলিমার নোট চালু হলেও বর্তমানে প্রচলিত কাগজের ১০ ও ২০ টাকার নোট তুলে নেওয়া হবে না। আরবিআই স্পষ্ট করেছে, দুই ধরনের নোটই একসঙ্গে চলবে। অর্থাৎ, নতুন নোট আসার সঙ্গে সঙ্গেই পুরনো কাগজের নোট অচল হয়ে যাবে— এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ভারতে এই প্রথম পলিমার নোট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ২০০৯ সালেও একই ধরনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই উদ্যোগে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
পাইলট প্রকল্প সফল হলে পরবর্তী ধাপে ১০০ টাকা এবং ৫০০ টাকার পলিমার নোট চালুর বিষয়েও ভাবনা রয়েছে। তবে তার আগে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ১০ ও ২০ টাকার নোট নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হবে।
পলিমার নোটের অন্যতম বড় সুবিধা হল এর স্থায়িত্ব। কাগজের নোটের তুলনায় এই নোট অনেক বেশি টেকসই, সহজে ছিঁড়ে যায় না এবং ধুলো-ময়লা বা আর্দ্রতার প্রভাবও তুলনামূলক কম পড়ে। ফলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত বহু এটিএম এবং নোট শনাক্তকারী যন্ত্র পলিমার নোটের জন্য তৈরি নয়। তাই ভবিষ্যতে বড় পরিসরে এই নোট চালু করতে হলে এটিএম সফটওয়্যার ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে হবে।
সব মিলিয়ে, আপাতত ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোট পরীক্ষামূলকভাবে চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে আরবিআই। সেই প্রকল্প কতটা সফল হয়, তার উপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে দেশে আরও বেশি মূল্যমানের প্লাস্টিকের নোট চালুর সিদ্ধান্ত।





