দেশের রাজনৈতিক ব্যঙ্গ-সংস্কৃতি ও সামাজিক মাধ্যম ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন এক প্রবণতার মধ্যেই আত্মপ্রকাশ করল ‘E20 জনতা পার্টি’। সংগঠনের দাবি, পেট্রোলে ইথানল মেশানোর নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ গাড়িচালকদের স্বার্থ রক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করী-র পদত্যাগও দাবি করেছে।
ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল। সেই বিতর্ক থেকেই নতুন এই সংগঠনের জন্ম বলে দাবি তাদের। E20 জনতা পার্টির বক্তব্য, তারা ভর্তুকি বা বিনামূল্যে জ্বালানি চায় না। ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল সম্পূর্ণ বন্ধ করার দাবিও তুলছে না। তাদের একমাত্র দাবি, বাজারে যেন ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রোল কেনার সুযোগ সাধারণ গ্রাহকদের জন্যও উন্মুক্ত থাকে।
সংগঠনের দাবি, জ্বালানির বোতলজাত পণ্যের মতোই স্পষ্ট লেবেলিং থাকা উচিত, যাতে ক্রেতারা বুঝতে পারেন তাঁরা ঠিক কী ধরনের পেট্রোল কিনছেন। পাশাপাশি ইথানল মিশ্রণের খরচ, সুবিধা ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। মাইলেজ, ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচের উপর স্বাধীন সমীক্ষা চালানোর দাবিও তুলেছে তারা।
এই আন্দোলনে পরিবহন কর্মীদের একাংশও সমর্থন জানিয়েছেন। দিল্লি ট্যাক্সি অ্যান্ড ট্যুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আগামী ৪ অগস্ট সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, ইথানল মেশানো পেট্রোল ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ কমছে এবং বিশেষ করে পুরোনো গাড়ির ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমেও দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে E20 জনতা পার্টি। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক্স (X) হ্যান্ডেলে কয়েক হাজার অনুসারী জুটেছিল সংগঠনের। পরে সেই সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়তে থাকে।
তবে সরকারের অবস্থান ভিন্ন। সংসদে পেট্রোলিয়াম প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী জানিয়েছেন, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের কারণে গাড়ির কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন কোনও প্রমাণ সরকারের হাতে নেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দেশে ইতিমধ্যেই ইথানল-মুক্ত ১০০ অক্টেন প্রিমিয়াম পেট্রোল বিক্রি হয়। তবে সেটি নির্দিষ্ট কয়েকটি ফুয়েল স্টেশনেই পাওয়া যায় এবং সাধারণ E20 পেট্রোলের তুলনায় তার দাম অনেক বেশি। ফলে নতুন এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কতটা জনসমর্থন পায় এবং সরকারের জ্বালানি নীতিতে কোনও প্রভাব ফেলতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।








