অবসরের পর নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা চান? সেক্ষেত্রে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (LIC)-এর স্মার্ট পেনশন প্ল্যান অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে। এই পরিকল্পনার অন্যতম বড় সুবিধা হল, একবার টাকা জমা করলেই দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয় না। নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর থেকেই পেনশন পাওয়া শুরু হয়।
এটি একটি ইমিডিয়েট অ্যানুইটি (Immediate Annuity) ভিত্তিক পরিকল্পনা। অর্থাৎ, পলিসি নেওয়ার সময় এককালীন টাকা বিনিয়োগ করতে হয় এবং তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট হারে আজীবন পেনশন দেওয়া হয়। যাঁরা অবসরের পর মাসে মাসে নিশ্চিত আয় চান, তাঁদের জন্য এই স্কিম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে।
LIC-এর এই প্ল্যানটি নন-লিঙ্কড এবং নন-পার্টিসিপেটিং। ফলে শেয়ার বাজারের ওঠানামার সঙ্গে পেনশনের কোনও সম্পর্ক থাকে না। পলিসি নেওয়ার সময় যে হারে অ্যানুইটি নির্ধারণ হবে, সেই হারেই সারাজীবন পেনশন মিলবে।
এই পরিকল্পনা এককভাবে অথবা স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে নেওয়া যায়। পাশাপাশি গ্রাহক নিজের সুবিধামতো পেনশন পাওয়ার সময়সূচিও বেছে নিতে পারেন। মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক কিংবা বার্ষিক—সব ধরনের বিকল্পই রয়েছে।
আরও একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হল, গ্রাহক চাইলে এমন বিকল্প বেছে নিতে পারেন, যেখানে প্রতি বছর পেনশনের পরিমাণ ৩ শতাংশ বা ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। দীর্ঘমেয়াদে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা সামাল দিতে এই সুবিধা কার্যকর হতে পারে।
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, পলিসিধারীর মৃত্যুর পর জমা করা অর্থের কী হবে? এই পরিকল্পনায় সেই ব্যবস্থাও রয়েছে। পলিসিধারীর মৃত্যুর পর তিনি যে মূল ক্রয়মূল্য (Purchase Price) জমা করেছিলেন, তা মনোনীত ব্যক্তির হাতে ফেরত দেওয়া হবে।
যাঁদের লক্ষ্য অবসরের পর প্রতি মাসে প্রায় ₹২০,০০০ বা তার বেশি পেনশন পাওয়া, তাঁদের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের এককালীন বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, প্রায় ₹৩৫ লক্ষ বিনিয়োগ করলে বছরে আনুমানিক ₹২.৮৭ লক্ষ, অর্থাৎ মাসে প্রায় ₹২৩,৯৪০ পর্যন্ত গ্যারান্টিযুক্ত পেনশন পাওয়া যেতে পারে। তবে এই অঙ্কটি কেবল একটি আনুমানিক হিসাব। প্রকৃত পেনশনের পরিমাণ নির্ভর করবে পলিসিধারীর বয়স এবং নির্বাচিত অ্যানুইটি বিকল্পের উপর।






