রাজ্যের কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে চালু হওয়া ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পে ফের নতুন করে আবেদন শুরু হতে পারে। কৃষি দফতর সূত্রে খবর, বর্তমানে উপভোক্তাদের নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে অগস্ট মাস থেকেই নতুন আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বছরে দু’বার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। খরিফ এবং রবি মরশুমে সমান দুটি কিস্তিতে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়। যাঁদের এক একর বা তার বেশি জমি রয়েছে, তাঁরা বছরে ১০ হাজার টাকা পান। অন্যদিকে এক একরের কম জমির মালিকদের বছরে ৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
শুধু আর্থিক অনুদানই নয়, এই প্রকল্পে সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। নথিভুক্ত কোনও কৃষকের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হলে এবং তাঁর মৃত্যু ঘটলে পরিবারের সদস্যরা এককালীন ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা পান।
নতুন করে আবেদন শুরু হলে তা অনলাইনের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমেও করা যাবে। আবেদন করতে হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, জমির সাম্প্রতিক রেকর্ড অব রাইটস বা পরচা। ভাগচাষিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শংসাপত্র প্রয়োজন হবে। এছাড়া ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের প্রথম পাতার কপি, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, সচল মোবাইল নম্বর এবং পূরণ করা আবেদনপত্র জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট সহ কৃষি অধিকর্তার দফতরে।
আবেদন অনুমোদিত হলে প্রকল্পের অর্থ সরাসরি ডিবিটি পদ্ধতিতে উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
আবেদনের বর্তমান অবস্থা অনলাইনে জানা যাবে। এর জন্য রাজ্যের কৃষি দফতরের পোর্টালে গিয়ে কৃষক বন্ধু বিভাগের ‘নথিভুক্ত কৃষকের তথ্য’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখানে আধার নম্বর, ভোটার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, মোবাইল নম্বর অথবা অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বরের মাধ্যমে আবেদনপত্রের স্ট্যাটাস দেখা যাবে।
যদি আবেদন সফলভাবে অনুমোদিত হয়, তাহলে আবেদনকারীর নামে একটি কেবিআইডি বা কৃষক বন্ধু আইডি তৈরি হবে। এই কেবিআইডি তৈরি হওয়াই প্রকল্পে সফলভাবে নথিভুক্ত হওয়ার প্রমাণ।
অগস্ট মাসে নতুন আবেদন শুরু হলে বহু কৃষক এই প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।






