তৎকাল টিকিট বুকিং প্রক্রিয়ায় একগুচ্ছ পরিবর্তন আনছে ভারতীয় রেল। যাত্রীদের দ্রুত ও নিরাপদ পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি টিকিট কালোবাজারি, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট এবং বটের অপব্যবহার রুখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেই চালু হতে পারে নতুন টিকিট বুকিং ওয়েবসাইট, যেখানে বুকিং প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ ও দ্রুত হবে।
নতুন ওয়েবসাইটে তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ক্যাপচা, পপ-আপ এবং ফ্ল্যাশিং গ্রাফিক্স সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে বুকিংয়ের সময় নষ্ট না হয়। পাশাপাশি একসঙ্গে সব শ্রেণির আসনের প্রাপ্যতা দেখা যাবে এবং টিকিট বুকিংয়ের ধাপও কমানো হয়েছে। ফলে চেকআউটের সময় কম লাগবে।
বটের মাধ্যমে টিকিট বুকিং রুখতেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রেল জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার এবং সন্দেহজনক বুকিং শনাক্ত করতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর ফলে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক টিকিট বুক করে কালোবাজারির সুযোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তৎকাল টিকিট বুক করার আগে IRCTC অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ ভেরিফাই থাকা বাধ্যতামূলক। মোবাইল নম্বর, ই-মেল আইডি এবং পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে আপডেট না থাকলে বুকিংয়ের সময় সমস্যা হতে পারে। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কিছু ক্ষেত্রে OTP যাচাইও বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে তৎকাল বুকিং শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক মিনিট অনুমোদিত এজেন্টদের বুকিংয়ের উপর আগের মতোই বিধিনিষেধ থাকবে। এতে সরাসরি বুকিং করা যাত্রীদের নিশ্চিত টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করছে রেল।
নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হল ভুয়ো ও ডুপ্লিকেট IRCTC অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা, বটের অপব্যবহার রোধ করা, টিকিট কালোবাজারি কমানো এবং প্রকৃত যাত্রীদের জন্য বুকিং প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করে তোলা।
তাই তৎকাল টিকিট বুক করার আগে নিজের IRCTC অ্যাকাউন্ট সক্রিয় ও ভেরিফাই রয়েছে কি না, মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য আপডেট আছে কি না এবং পেমেন্টের ব্যবস্থা আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে কি না, তা একবার নিশ্চিত করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে রেল। নতুন ব্যবস্থার ফলে তৎকাল টিকিট বুকিংয়ের অভিজ্ঞতা আগের তুলনায় আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।






