বয়স্ক-বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বড় ঘোষণা বিজেপি সরকারের! ভাতার পরিমাণ কত টাকা বাড়ানো হলো?

On: Monday, June 22, 2026 9:56 PM
---Advertisement---

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিপুল ঋণভার এবং আর্থিক চাপের মধ্যেও বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, ভাতা বৃদ্ধি এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রবীণ নাগরিক, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন। বাজেট অনুযায়ী, এই তিন শ্রেণির উপভোক্তাদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হবে। ফলে এতদিন যাঁরা মাসে ১,০০০ টাকা পেতেন, তাঁরা এখন থেকে ১,৫০০ টাকা করে পাবেন।

পরিবহণ ক্ষেত্রেও কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য আর্থিক স্বস্তির বার্তা দেওয়া হয়েছে। স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের চুক্তিভিত্তিক কন্ডাক্টরদের মাসিক পারিশ্রমিক বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, গ্রিন পুলিশ এবং হোমগার্ডদের ভাতাও মাসে ২,০০০ টাকা করে বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা কয়েকটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীও। লোধা শবর, টোকো এবং বিরহল সম্প্রদায়ের পরিবারের জন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তা প্রকল্প চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি সপ্তাহে পরিবারগুলিকে চাল, ডাল, চিনি, তেল-সহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারি মহলের দাবি, বাজেটে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কথা বিবেচনা করা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশের নজর এখন রাজ্যের আর্থিক অবস্থার দিকে। কারণ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের ঋণের পরিমাণ ইতিমধ্যেই ৮ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যের অংশের ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি দিল্লিতে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের সঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman)-এর বৈঠকের পর কেন্দ্রের তরফে সম্ভাব্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

প্রথম বাজেটে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উপর জোর দিয়ে সরকার একাধিক বার্তা দিতে চেয়েছে। তবে এই প্রতিশ্রুতিগুলির বাস্তবায়ন এবং একই সঙ্গে রাজ্যের আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা— আগামী দিনে সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now