যুদ্ধের আঁচে জ্বালানি গরম, বাজার কাঁপলেও সোনা-রুপোয় বিপরীত ছবি; বিয়ের মরসুমে স্বস্তি, লগ্নিতে ধাক্কা

On: Friday, June 12, 2026 10:47 PM
---Advertisement---

ইরান-সংক্রান্ত সামরিক উত্তেজনা এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তাতে স্বাভাবিকভাবেই প্রভাব পড়েছে ভারতের আর্থিক বাজারেও। শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তার ছায়া ঘনালেও, আশ্চর্যজনকভাবে সোনা ও রুপোর দামে দেখা যাচ্ছে উল্টো প্রবণতা। বিয়ের মরসুমের মুখে যা একদিকে ক্রেতাদের মুখে হাসি ফোটালেও, অন্যদিকে চাপ বাড়িয়েছে বিনিয়োগকারীদের উপর।

সাধারণ পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হলেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ও রুপোর দিকে ঝোঁক বাড়ে। কিন্তু এবার ছবিটা আলাদা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক আর্থিক ও প্রযুক্তিগত কারণ মিলিয়ে এই দুই ধাতুর দামে ধারাবাহিক পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত তথ্য বলছে, সোনা ও রুপোর এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত পতন হয়েছে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটেও সোনার দাম প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ২০০ দিনের গড়ের নিচে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির চাপ বেড়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত কয়েক মাস ধরে বাড়তে থাকলেও সোনা-রুপোর বাজারে সেই অনুকূল প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং ২০০৯ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমেছে চাহিদা, এমনটাই দাবি একাধিক ব্রোকারেজ সংস্থার রিপোর্টে।

ভারতীয় কমোডিটি বাজারেও একই চিত্র ধরা পড়েছে। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে গত কয়েক দিনে সোনা টানা দরপতনের মুখে পড়েছে। এক দিনে প্রায় ২৭৭ টাকা কমে ১০ গ্রাম সোনার দাম নেমেছে প্রায় ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকার আশেপাশে। রুপোর ক্ষেত্রেও পতন আরও স্পষ্ট—এক কেজিতে প্রায় ৩,৮০০ টাকার বেশি দর কমে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৩১ হাজার টাকার কাছাকাছি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নয়, বড় কারণ হয়ে উঠেছে প্রযুক্তিগত সূচকও। সোনার দাম ২০০ দিনের গড়ের নিচে নেমে যাওয়ায় অ্যালগরিদমিক ট্রেডিং এবং তহবিল ভিত্তিক বিক্রির চাপ বেড়েছে। তার জেরেই একের পর এক গোল্ড ও সিলভার ইটিএফ থেকে লগ্নিকারীরা টাকা তুলে নিচ্ছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, মে মাসে সোনা-রুপোর ইটিএফ থেকে প্রায় ৭২৫ কোটি টাকার বহির্গমন হয়েছে। এপ্রিল মাসেও একই প্রবণতা বজায় ছিল, যদিও মে মাসে বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে মোট বিনিয়োগ ৭০ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি পার করে।

ফলে একদিকে যখন নতুন বিয়ের মৌসুমে গয়নার বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে, তখন অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পতন তৈরি করেছে উদ্বেগের পরিবেশ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দিনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও মার্কিন নীতিগত সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে সোনা-রুপোর দামের পরবর্তী দিক।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now