টলিপাড়ায় আলোড়ন ফেলা স্বরূপ বিশ্বাস-কাণ্ডে এবার সামনে এল অভিযোগকারিণীর ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কাহিনি। দীর্ঘ দিন কাজ না পাওয়া, আর্থিক অনটন, মানসিক চাপ এবং ভয়-ভীতির মধ্যে কাটানো সময়ের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করলেন, এই লড়াই শুধুমাত্র তাঁর নিজের জন্য নয়, ইন্ডাস্ট্রির আরও অনেকের জন্য।
সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেফতার হয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছিল। সেই মামলার অভিযোগকারিণী এক সাক্ষাৎকারে জানান, গত কয়েক বছর তাঁর জীবনে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকট নেমে এসেছিল।
তাঁর দাবি, কাজের আশায় বহুবার বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলেও সুযোগ পাননি। এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল যখন সংসার চালাতে অন্যের সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমি যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, তা যেন আর কাউকে না যেতে হয়। সেই কারণেই অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছি।’’
অভিযোগকারিণীর আরও দাবি, অভিযোগ দায়েরের পর তাঁকে নানা ধরনের চাপ এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি অভিযোগ প্রত্যাহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, তাঁকে এমন কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যা তিনি মেনে নিতে পারেননি। এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা অবশ্য এখনও আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।
স্বরূপ বিশ্বাস সম্পর্কে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘রাক্ষসটাকে জেলে পৌঁছে দিতে পেরেছি! খুব আনন্দ হচ্ছে! শুধু আমার জন্য নয়, সবার জন্য।’’ তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে ইন্ডাস্ট্রির একাংশে ক্ষমতার অপব্যবহার চলছিল।
ব্যক্তিগত জীবনের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। চার বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। দুই মেয়ের সহায়তায় কোনও রকমে জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এক সময় আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন বলে জানান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের পথই বেছে নিয়েছেন।
এই কঠিন সময়ের মধ্যেই আবার অভিনয়ে ফিরছেন তিনি। সম্প্রতি দেব-র আসন্ন ছবি দেশু ৭-এ কাজের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান। তাঁর কথায়, ‘‘দেবদা আমার ভিডিয়ো দেখেছিলেন। তারপর তাঁর অফিস থেকে যোগাযোগ করা হয়। এই সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’’
তবে মামলা এখনও তদন্তাধীন। অভিযোগকারিণীর তোলা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে আদালত এবং তদন্তকারী সংস্থার রিপোর্ট। কিন্তু দীর্ঘ দিনের নীরবতার পর তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এনে দিয়েছে টলিপাড়ার ক্ষমতার কাঠামো এবং কর্মপরিবেশের প্রশ্নকে।







