আগামী ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার নির্বাচন। এক ধাক্কায় ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ—যা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে। তবে এ বার শুধু ভোট নয়, নজর কেড়েছে ভোটার তালিকার পরিবর্তনও।
২০২১ সালের তুলনায় প্রথম দফার এই আসনগুলিতে মোট ভোটারের সংখ্যা কমেছে। আগের নির্বাচনে যেখানে ভোটার ছিলেন ৩ কোটির বেশি, সেখানে ২০২৬ সালে সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষে। পুরুষ ভোটার সামান্য এগিয়ে থাকলেও মহিলা ভোটারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন কয়েকশো।
বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পরে বেশ কিছু নাম বাদ পড়া এবং নতুন করে অন্তর্ভুক্তির ঘটনাও সামনে এসেছে। ট্রাইবুনালের মাধ্যমে কিছু ভোটার পুনরায় সুযোগ পেয়েছেন, আবার কিছু নাম বাদও গিয়েছে—যা ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আসন বিন্যাসের দিক থেকেও এই দফা গুরুত্বপূর্ণ। ১৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত ৩৪টি এবং তফসিলি উপজাতির জন্য ১৫টি আসন রয়েছে। ভৌগোলিক দিক থেকে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র শিলিগুড়ি, আর সবচেয়ে বড় কালিম্পং। তবে ভোটারের নিরিখে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর সবচেয়ে বড় কেন্দ্র, আর সবচেয়ে ছোট মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জ।
ভোটারদের প্রোফাইলেও রয়েছে বৈচিত্র্য। প্রথমবার ভোট দিতে চলেছেন ১৮-১৯ বছরের প্রায় চার লক্ষ তরুণ-তরুণী। অন্যদিকে ষাটোর্ধ্ব ভোটারের সংখ্যা ৬৩ লক্ষেরও বেশি। প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী ভোটারদের উপস্থিতিও যথেষ্ট, যা ভোটের দিন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
মোট বুথের সংখ্যা ৪৪ হাজারের বেশি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি বুথেই ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ইভিএম, ভিভিপ্যাট এবং কন্ট্রোল ইউনিটের বিপুল ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে যাতে ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন হয়।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের নিরিখে ১৫২টি আসনে মোট প্রার্থী ১৪৭৮ জন। তার মধ্যে মহিলা প্রার্থী রয়েছেন ১৬৭ জন। কয়েকটি কেন্দ্রে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র, আবার কোথাও লড়াই তুলনামূলক কম।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এ বার নজরকাড়া। মোট ২,৪০০-র বেশি কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বাহিনী রাখা হয়েছে মুর্শিদাবাদে, যা প্রশাসনের কাছে স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বিবেচিত। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ কর্মী ভোট পরিচালনায় থাকবেন।
ভোর সাড়ে ৫টা থেকেই শুরু হবে প্রস্তুতি, সকাল ৭টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। সব দিক মিলিয়ে প্রথম দফার ভোটই নির্ধারণ করতে পারে রাজ্যের নির্বাচনী আবহ—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।








