চিকিৎসা পরিষেবার পর্দার আড়ালে থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেশা হল মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি। রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে রক্ত, মূত্র বা অন্যান্য শারীরিক নমুনার সঠিক পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ অনেকটাই নির্ভর করে ল্যাব টেকনিশিয়ানদের উপর। ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তাঁদের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই পেশায় আসতে চাইলে প্রথমেই বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করতে হয়। এরপর স্নাতক স্তরে মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই কোর্সে ভর্তি হতে হলে জয়েন্ট এন্ট্রান্স টেস্ট ফর নার্সিং, প্যারামেডিক্যাল অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস বা জেনপাস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া জরুরি। ডিগ্রির পাশাপাশি ডিপ্লোমা কোর্সের ব্যবস্থাও রয়েছে। পড়াশোনা শেষের পর সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের অধীনে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক।
রাজ্যের একাধিক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে পড়ানো হয়। বিশেষ করে West Bengal University of Health Sciences-এর অধীন কলেজগুলি এবং School of Tropical Medicine এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।
কাজের ক্ষেত্রও যথেষ্ট বিস্তৃত। ফিজ়িওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, প্যাথোলজি থেকে শুরু করে মাইক্রোস্কোপি—বিভিন্ন শাখায় পরীক্ষার দায়িত্ব নিতে হয়। পাশাপাশি ল্যাবের যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, ডেটা সংরক্ষণ এবং পরীক্ষার গুণমান যাচাইয়ের মতো কাজও তাঁদেরই করতে হয়।
চাকরির সুযোগ রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, প্যাথলজি ল্যাব, ব্লাড ব্যাঙ্ক, গবেষণাকেন্দ্র এমনকি রেল বা ব্যাঙ্কের মতো সংস্থাতেও। শুরুতে মাসিক বেতন ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে হলেও, সরকারি ক্ষেত্রে তা ২৮ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।
স্বাস্থ্য পরিষেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চান যাঁরা, তাঁদের কাছে এই পেশা হতে পারে স্থায়ী ও সম্ভাবনাময় একটি পথ।







