ডিজিটাল পরিকাঠামোর উপর নির্ভরশীলতা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মীর চাহিদা। ছোট-বড় প্রায় সব সংস্থাতেই এখন কম্পিউটার, সার্ভার ও নেটওয়ার্ক পরিচালনার জন্য প্রয়োজন বিশেষজ্ঞের। এই প্রেক্ষাপটে আইটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদটি হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ ও চাহিদাসম্পন্ন একটি পেশা।
একজন আইটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের মূল দায়িত্ব হল কোনও প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম, সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম ও নেটওয়ার্কের রক্ষণাবেক্ষণ করা। অফিসের কাজ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রযুক্তিগত সমস্যা দ্রুত সমাধান করাও এই পদের অন্যতম কাজ।
কী পড়াশোনা প্রয়োজন?
এই পেশায় আসতে হলে সাধারণত কম্পিউটার সায়েন্স বা ইনফরমেশন টেকনোলজিতে স্নাতক ডিগ্রি থাকলে সুবিধা হয়। তবে শুধু এই ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয় সুযোগ। অন্য কোনও বিষয়ে স্নাতক হলেও, যদি কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্কিংয়ে ডিপ্লোমা করা থাকে, তাহলেও আইটি সেক্টরে প্রবেশ করা সম্ভব।
তবে সরাসরি আইটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদে নিয়োগ সবসময় হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্যারিয়ার শুরু হয় আইটি সাপোর্ট বা টেকনিক্যাল টিমে কাজ করার মাধ্যমে। সেখান থেকে কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা অর্জনের পরই অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদে উন্নীত হওয়ার সুযোগ আসে।
বেতন কত হতে পারে?
এই পেশায় শুরুতেই খুব বেশি বেতন না হলেও ধীরে ধীরে আয় বাড়ার সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাসিক বেতন সাধারণত ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে থাকে। অভিজ্ঞতা বাড়লে তা ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। দক্ষতা ও কাজের অভিজ্ঞতা বেশি হলে মাসে ৯০ হাজার টাকারও বেশি আয় সম্ভব।
চাকরির সুযোগ কোথায়?
সরকারি ও বেসরকারি—দুই ক্ষেত্রেই আইটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা, আইটি কোম্পানি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সরকারি দফতর—সব জায়গাতেই এই পদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্পোরেশনেও এই পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। আগ্রহীদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে আইটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে স্থায়ী আয় ও পেশাগত উন্নতির সম্ভাবনাও। যারা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের কাছে এই পেশা হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় বিকল্প।







