ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন এখন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর সেই স্মার্টফোনকে আরও ‘স্মার্ট’ করে তুলতেই কাজ করেন মোবাইল ডেভেলপাররা। একটি অ্যাপ কীভাবে কাজ করবে, দেখতে কেমন হবে, কত দ্রুত চলবে— এই সবকিছুর নেপথ্যে থাকেন এই পেশার মানুষজন। ফলে চাকরির বাজারে এই ক্ষেত্রের চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে, সরকারি ও বেসরকারি— দুই ক্ষেত্রেই।
মোবাইল ডেভেলপারদের মূল কাজ হল বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি ও উন্নত করা। অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস প্ল্যাটফর্মে নতুন অ্যাপ বানানো থেকে শুরু করে পুরনো অ্যাপে নতুন ফিচার যোগ করা— সবই তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। পাশাপাশি ক্যামেরা, জিপিএস, নোটিফিকেশন বা অন্যান্য সেন্সর আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা, অ্যাপের গতি ঠিক রাখা এবং ‘হ্যাং’ সমস্যা কমানো— এসব দিকেও নজর রাখতে হয়।
এই পেশায় আসতে গেলে প্রথমেই প্রয়োজন সঠিক শিক্ষাগত যোগ্যতা। সাধারণত কম্পিউটার সায়েন্স বা ইনফরমেশন টেকনোলজি নিয়ে বিটেক বা বিএসসি ডিগ্রি থাকা আবশ্যিক। এর পাশাপাশি মোবাইল আর্কিটেকচার, নেটিভ ডিভাইস এপিআই এবং পারফরমেন্স অপ্টিমাইজেশনের মতো বিষয়ে দক্ষতা থাকলে সুবিধা পাওয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতাও চাওয়া হয়।
প্রযুক্তিগত দক্ষতার দিক থেকেও নিজেকে তৈরি রাখা জরুরি। বর্তমানে রিয়্যাক্ট নেটিভ, ফ্লাটার, সুইফট, কটলিনের মতো প্রোগ্রামিং ভাষা ও ফ্রেমওয়ার্কে দক্ষতা থাকলে চাকরির সুযোগ অনেকটাই বেড়ে যায়।
বেতনের ক্ষেত্রেও এই পেশা যথেষ্ট আকর্ষণীয়। নতুনরা বছরে প্রায় ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। অভিজ্ঞতা বাড়লে সেই অঙ্ক ৫ থেকে ১০ লক্ষে পৌঁছয়। আর পাঁচ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা থাকলে বার্ষিক বেতন ২০ লক্ষ টাকার গণ্ডিও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
চাকরির সুযোগও কম নয়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত, এমনকি মহাকাশ গবেষণা বা প্রতিরক্ষা সংস্থাতেও এই পদের চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি আইটি সংস্থাগুলিতে নিয়মিত নিয়োগ হচ্ছে মোবাইল ডেভেলপারদের।
এই মুহূর্তে, ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্পোরেশনের অধীনে বেশ কিছু প্রকল্পে নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। (https://dic.gov.in/) এই সাইটে সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগ করা হচ্ছে কর্মী। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১২ এপ্রিল।







