স্মার্ট টিভি, কম্পিউটার, গেমিং কনসোল কিংবা চার্জার— বাড়ির প্রায় সব ইলেকট্রনিক যন্ত্রই এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। কিন্তু অনেকেই জানেন না, সুইচ অফ করলেও কিছু ডিভাইস নীরবে বিদ্যুৎ খরচ করতে থাকে। আর এই অদৃশ্য বিদ্যুৎ অপচয় কমাতেই বিশ্বজুড়ে চালু হয়েছিল ‘1-Watt Rule’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্র সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও কিছু অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম চালু রাখে। ফলে ডিভাইসটি ব্যবহার না হলেও সামান্য পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়। এই প্রক্রিয়াকেই বলা হয় স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার কনজাম্পশন।
বিদ্যুৎ অপচয়ের এই সমস্যা মোকাবিলায় ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে সেটিই ‘One-Watt Initiative’ নামে পরিচিতি পায়। উদ্যোগটির লক্ষ্য ছিল, স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেন সর্বোচ্চ ১ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সীমা আরও কমিয়ে ০.৫ ওয়াট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
এই নীতির ফলে ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাতাদের আরও শক্তি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়েছে। বর্তমানে বাজারে পাওয়া অধিকাংশ আধুনিক স্মার্ট ডিভাইস আগের তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে গ্রাহকদের বিদ্যুতের বিলে।
তবে শুধু প্রযুক্তির উপর নির্ভর করলেই হবে না। ব্যবহারকারীদেরও কিছু অভ্যাস বদলানো প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করলে টিভি, মাইক্রোওয়েভ, গেমিং কনসোল বা চার্জার প্লাগ থেকে খুলে রাখা যেতে পারে। কারণ বিদ্যুৎ সংযোগে লাগানো থাকলে অনেক ডিভাইসই অল্প হলেও বিদ্যুৎ টানতে থাকে।
নতুন কোনও ইলেকট্রনিক পণ্য কেনার সময় তার স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার কনজাম্পশন সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সামান্য সচেতনতা যেমন বিদ্যুতের অপচয় কমাতে পারে, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে কমাতে পারে মাসিক বিদ্যুৎ বিলের চাপও।
ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির সুবিধা যেমন বাড়ছে, তেমনই শক্তি সাশ্রয়ের গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে। আর সেই কারণেই ‘1-Watt Rule’ আজও বিশ্বজুড়ে শক্তি ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।






