পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বহুদিনের দাবি ছিল বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) পরিশোধের। অবশেষে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্নের অর্থ দপ্তর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর থেকেই কর্মচারীদের নজর ছিল রাজ্য সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে ধাপে ধাপে বকেয়া ডিএ মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ কবে দেওয়া হবে।
২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ নিয়ে কী বলেছে সরকার
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে শুধুমাত্র ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ প্রদান করা হবে।
এর ফলে এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এই সময়ের বকেয়া ডিএ কীভাবে এবং কবে দেওয়া হবে তা পরে পৃথক নির্দেশিকার মাধ্যমে জানানো হবে।
অর্থাৎ, আপাতত ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ পাচ্ছেন না কর্মীরা এবং এ বিষয়ে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
প্রথম ধাপের টাকা কীভাবে দেওয়া হবে
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া টাকা একবারে দেওয়া হবে না। এই টাকা দুটি সমান কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।
প্রথম কিস্তি: ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় কিস্তি: ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়া হবে।
এই বকেয়া ডিএ হিসাব করা হবে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) বা সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচকের ভিত্তিতে। প্রয়োজনে একটি মনিটরিং কমিটি এই হিসাব চূড়ান্ত করতে পারে।
কর্মীদের টাকা পাওয়ার নিয়ম
সরকারি নির্দেশিকায় কর্মীদের পদমর্যাদা অনুযায়ী বকেয়া টাকা দেওয়ার আলাদা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্রুপ A, B এবং C কর্মী
এই শ্রেণির কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ সরাসরি তাদের GPF অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে।
গ্রুপ D কর্মী ও পেনশনভোগী
গ্রুপ ডি কর্মী, বর্তমান পেনশনভোগী এবং ফ্যামিলি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বকেয়া টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
প্রাক্তন কর্মী ও মৃত কর্মীদের পরিবার
২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে যারা চাকরিতে ছিলেন কিন্তু এখন অবসর নিয়েছেন বা চাকরি ছেড়েছেন, তারাও এই বকেয়া পাওয়ার অধিকারী। এর জন্য তাদের শেষ কর্মস্থলের প্রধান বা হেড অফ অফিসের কাছে আবেদন করতে হবে।
কোনও কর্মীর মৃত্যু হয়ে থাকলে তার আইনি উত্তরাধিকারীরাও এই বকেয়া পাওয়ার অধিকারী হবেন।
কর্মী সংগঠনগুলির অসন্তোষ
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর দাবি, সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিলেও কিস্তিতে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কর্মীদের জন্য হতাশাজনক।
এছাড়াও গ্রুপ A, B এবং C কর্মীদের টাকা GPF অ্যাকাউন্টে জমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কারণ প্রয়োজনের সময় এই টাকা সহজে তোলা যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে সরকারি কর্মচারীরা আবার আন্দোলনের পথে নামতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে কর্মী সংগঠনগুলি।





