টালিগঞ্জে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এখন তীব্র আলোড়ন। রাহুলের অকালপ্রয়াণের পর থেকেই শিল্পীমহলে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—শুটিং সেটে নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত ছিল? এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রযোজনা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এমনকি আইনি নোটিস পাঠানো হলেও এখনও স্পষ্ট কোনও উত্তর মেলেনি বলে জানা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে একজোট হয়েছেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা। ন্যায়বিচারের দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে, পথে নেমে প্রতিবাদও শুরু হয়েছে। তবে এই আন্দোলনের মিছিলে দেখা যায়নি পরিচালক রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty)-কে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন স্বয়ং রাজ চক্রবর্তী। বর্তমানে প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি মিছিলে যোগ দিতে পারেননি বলে জানান। তবে গোটা ঘটনায় যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তা নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন তিনি।
দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজ চক্রবর্তী বলেন, “আমি বাইরে আছি, প্রচারে ব্যস্ত। ফলে যেটুকু আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছি, যেটুকু আমার কাছে খবর আসছে, নিরাপত্তা নিয়ে কথা হচ্ছে। আমার এখানে একটা কথা বলার আছে, নিরাপত্তা কি তবে এতদিন ধরে দিচ্ছিলাম না আমরা? এটা হতে পারে? আমরা যখন কাজ করছিলাম, তখন কি কেউ নিরাপদ ছিল না? একটা দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। সেটা থেকে আমাদের আরও চোখ খুলে গিয়েছে। আমাদের আরও বেশি নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হবে। কিন্তু আমরা সেফটি সিকিউরিটি নিয়েই কাজ করেছি। এতবছর ধরে কাজ করেছি। অবশ্যই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই কাজ করেছি। হতে পারে আরও কিছু আপগ্রেডেশনের প্রয়োজন রয়েছে। যেগুলো করলে মনে হয় ভাল হবে, সেগুলো নিশ্চয়ই হবে। কিন্তু সেফটি সিকিউরিটি ছিল না– এটা আমি মানতে নারাজ।”
শিল্পীমহলের একাংশ যেখানে নিরাপত্তার ঘাটতির অভিযোগ তুলছেন, সেখানে রাজের এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। এখন নজর, নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং এই টানাপোড়েনের মধ্যে টলিপাড়া কবে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে।






