এতদিন কর্মচারী ভবিষ্যনিধি বা প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF)-এর সুবিধা মূলত সংগঠিত ক্ষেত্রের চাকরিজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার সেই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন গিগ কর্মী, ফ্রিল্যান্সার, ছোট ব্যবসায়ী, দোকানদার এবং স্বনির্ভর পেশায় যুক্ত লক্ষ লক্ষ মানুষ। কেন্দ্র সরকার ‘ইউনিভার্সাল প্রভিডেন্ট ফান্ড স্কিম’ চালুর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-এর বাইরে থাকা অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদেরও এই সঞ্চয় প্রকল্পে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে অবসরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষা তৈরির সুযোগ পাবেন তাঁরা।
কারা এই সুবিধা পেতে পারেন?
প্রস্তাবিত প্রকল্পে ফ্রিল্যান্সার, গিগ ওয়ার্কার, স্বনির্ভর পেশাজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার এবং অসংগঠিত খাতের কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে এই শ্রেণির অধিকাংশ মানুষ EPF-এর সুবিধার বাইরে থাকায় তাঁদের জন্য পৃথক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান নিয়মে কী সুবিধা মেলে?
এখন শুধুমাত্র ২০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই সাধারণত EPF-এর আওতায় আসেন। ফলে দেশের বিপুল সংখ্যক কর্মজীবী এখনও এই অবসরকালীন সঞ্চয় প্রকল্পের সুবিধা পান না।
নতুন স্কিমে কী হতে পারে?
সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত ইউনিভার্সাল PF স্কিমে টাকা জমার ক্ষেত্রে অনেক বেশি নমনীয়তা রাখা হতে পারে। সাধারণ EPF-এর মতো প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্ক জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নাও থাকতে পারে।
গিগ কর্মী বা ফ্রিল্যান্সারদের আয় সব মাসে সমান হয় না। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই দৈনিক, মাসিক বা বছরে একবার—নিজের সুবিধামতো অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
তবে এই প্রকল্প এখনও প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। সরকার চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে তবেই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। তা হলে বর্তমানে EPF-এর বাইরে থাকা কয়েক কোটি কর্মী প্রথমবারের মতো অবসরকালীন সঞ্চয় ও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আসতে পারেন।






