অফিস যাতায়াত হোক কিংবা কলেজে যাওয়া, বাজার করা বা পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন, শহরের রাস্তায় স্কুটার এখন বহু মানুষের প্রথম পছন্দ। কম খরচে চলার পাশাপাশি সহজ রাইডিং এবং পর্যাপ্ত স্টোরেজের কারণে ফ্যামিলি স্কুটারের চাহিদাও যথেষ্ট। এই তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত নাম TVS Jupiter 110।
যাঁরা এককালীন পুরো টাকা খরচ না করে EMI এর মাধ্যমে স্কুটার কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য Jupiter 110 একটি বিবেচ্য বিকল্প হতে পারে। তবে ফাইন্যান্স নেওয়ার আগে স্কুটারের অন রোড দাম, ডাউন পেমেন্ট এবং ঋণের সুদের হার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ডিলার বা ফাইন্যান্স সংস্থার কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে নেওয়া জরুরি।
কত থেকে দাম শুরু
TVS Jupiter 110 এর বেস Jupiter Drum ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৭৪,১২৫ টাকা থেকে শুরু। এটি এক্স শোরুম মূল্য। এর সঙ্গে রোড ট্যাক্স, রেজিস্ট্রেশন, ইনস্যুরেন্সসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় বিভিন্ন শহরে অন রোড দাম আলাদা হতে পারে।
EMI কত হবে
Jupiter 110 ফাইন্যান্সে কেনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও ডাউন পেমেন্ট বা EMI সবার জন্য এক নয়। গ্রাহক কত টাকা অগ্রিম দেবেন, ঋণের পরিমাণ কত হবে, কত মাসের জন্য ঋণ নেওয়া হচ্ছে এবং ব্যাঙ্ক বা ফাইন্যান্স সংস্থার সুদের হার কত, তার উপর মাসিক কিস্তি নির্ভর করবে।
সাধারণ ভাবে বেশি ডাউন পেমেন্ট দিলে ঋণের পরিমাণ কমে যায়। ফলে ঋণের মেয়াদ ও সুদের হার একই থাকলে মাসিক EMI কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নিজের বাজেট অনুযায়ী ডাউন পেমেন্ট ঠিক করাই সুবিধাজনক।
কী ইঞ্জিন রয়েছে
TVS Jupiter 110 এ ১১৩.৩ সিসির ইঞ্জিন রয়েছে। স্কুটারটিতে iGO Assist প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, এই প্রযুক্তি প্রয়োজনের সময় পিকআপ বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়েও সাহায্য করে এবং মাইলেজে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নতি করতে পারে।
স্কুটারটির মূল লক্ষ্য স্পোর্টি পারফরম্যান্স নয়। বরং শহরের রাস্তায় প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য আরামদায়ক ও সহজ রাইডিংয়ের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে অফিস যাতায়াত থেকে শুরু করে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে।
ফিচারে কী কী রয়েছে
Jupiter 110 এ দৈনন্দিন ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে একাধিক ফিচার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে LED লাইটিং, ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল এবং SmartXonnect প্রযুক্তি। SmartXonnect এর মাধ্যমে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, নেভিগেশন এবং নোটিফিকেশনের মতো সুবিধা পাওয়া যায়।
স্কুটারটিতে রয়েছে ফ্রন্ট মাউন্টেড ফুয়েল ফিলার। ফলে পেট্রোল ভরার সময় সিট খোলার প্রয়োজন হয় না। সঙ্গে রয়েছে USB চার্জিং পোর্ট।
স্টোরেজের দিক থেকেও Jupiter 110 ফ্যামিলি ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক। এতে প্রায় ৩০ লিটারের আন্ডার সিট স্টোরেজ রয়েছে। সংস্থার দাবি, সেখানে দুটি হেলমেট রাখা সম্ভব। এছাড়া লম্বা সিট থাকায় রাইডার ও পিছনে বসা যাত্রীর জন্য তুলনামূলক আরামদায়ক অভিজ্ঞতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন ডুয়াল টোন ভ্যারিয়েন্ট
Jupiter 110 এর লাইনআপে নতুন Dual Tone Spectral Range ভ্যারিয়েন্টও যুক্ত হয়েছে। এই মডেলে ডুয়াল টোন কালার স্কিমের পাশাপাশি কিছু নতুন লাইটিং ফিচার দেওয়া হয়েছে। দিল্লিতে এই ভ্যারিয়েন্টের এক্স শোরুম দাম ৮৯,৮২৫ টাকা।
সব মিলিয়ে TVS Jupiter 110 এর মূল আকর্ষণ হল এর ব্যালান্সড প্যাকেজ। পর্যাপ্ত স্টোরেজ, লম্বা সিট, সামনে ফুয়েল ফিলার, USB চার্জিং, ডিজিটাল কনসোল এবং iGO Assist এর মতো ফিচার একে দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী করে তুলেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের শহরের অন রোড দাম এবং ফাইন্যান্স সংস্থার EMI অফার যাচাই করে নেওয়াই ভালো।







