পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় ভারতের জ্বালানি সরবরাহে চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের একটি বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এর ব্যাঘাতে রান্নার গ্যাস, পেট্রল, ডিজেল থেকে বিমান জ্বালানি—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কালোবাজারি ঠেকাতে ভারতের কেন্দ্র সরকার অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন জারি করেছে।
সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ভারতকে এখন আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে বিকল্প পথে তেল আমদানি করতে হচ্ছে। তবে এই ঘুরপথে আমদানি ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান না হলে দেশে জ্বালানি সঙ্কট আরও গভীর হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে নজরে আসছে চিনের প্রস্তুতি। বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও বেজিং বহু আগেই জ্বালানি নিরাপত্তায় জোর দিয়েছে। বর্তমানে চিনের কাছে আনুমানিক ১২০ থেকে ১৩০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, যা তাদের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কাছেও উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক মজুত রয়েছে।
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি সঙ্কটের সম্ভাবনা বুঝেই নিজেদের নীতিতে পরিবর্তন আনে চিন। সস্তা অপরিশোধিত তেল ব্যাপক হারে আমদানি করে মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ অবকাঠামোও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডারও শক্তিশালী করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতসহ এশিয়ার একাধিক দেশ তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে পড়তে পারে। তবে আগাম পরিকল্পনা, বিপুল মজুত এবং বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই সুরক্ষিত অবস্থানে রয়েছে চিন।






