অগস্ট মাস শুরু হতেই সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে মাসের বেতন। কিন্তু বেতন হাতে পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই যদি অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে যায়, তাহলে আর্থিক পরিকল্পনায় বদল আনার সময় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে মাসিক সঞ্চয় অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।
প্রথমেই নিজের মোট মাসিক আয়ের একটি পরিষ্কার হিসাব তৈরি করা জরুরি। শুধু চাকরির বেতন নয়, বাড়িভাড়া, ব্যবসা, ফ্রিল্যান্স কাজ বা অন্য কোনও উৎস থেকে আয় হলে সেটিও এই তালিকায় রাখতে হবে। মোট আয় জানা থাকলেই বাজেট তৈরি করা সহজ হয়।
এরপর প্রয়োজন মাসিক খরচের হিসাব রাখার। অনেকেই প্রতিদিন বা প্রতি মাসে কোথায় কত টাকা খরচ করছেন, তার কোনও রেকর্ড রাখেন না। অথচ সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা। বেতন পাওয়ার পর প্রথমে ঋণের ইএমআই, বাড়িভাড়া, সন্তানের স্কুল বা কলেজের ফি, যাতায়াত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের খরচ আলাদা করে রাখা উচিত।
অনলাইন শপিংয়ের ক্ষেত্রেও সংযম জরুরি। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে কী কিনছেন এবং তার জন্য কত টাকা খরচ হচ্ছে, তার হিসাব রাখলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সহজেই চিহ্নিত করা যায়। এতে পরের মাসে কোথায় খরচ কমানো সম্ভব, সেটাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজন এবং ইচ্ছার মধ্যে পার্থক্য বোঝা আর্থিক পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি। খাবার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যাতায়াত এবং বাসস্থানের মতো প্রয়োজনীয় খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। অন্যদিকে শুধুমাত্র শখ পূরণের জন্য অতিরিক্ত খরচ করলে দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয়ে প্রভাব পড়ে।
অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বহুল পরিচিত একটি বাজেট পদ্ধতি হল ৫০-৩০-২০ নিয়ম। এই নিয়ম অনুযায়ী, মাসিক আয়ের ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা উচিত। ৩০ শতাংশ রাখা যেতে পারে জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচের জন্য। বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি সঞ্চয় বা বিনিয়োগে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
এ ছাড়াও জরুরি পরিস্থিতির জন্য আলাদা একটি তহবিল গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। চাকরি হারানো, ব্যবসায় ক্ষতি বা অন্য কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে এই সঞ্চিত অর্থ পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্বস্তি পেতে তাই বেতন হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিকল্পিত বাজেট তৈরির বিকল্প নেই।






