ভারতে কাগজের নোটের যুগ কি শেষ হতে চলেছে? সেই জল্পনাই এবার আরও জোরালো। সূত্রের খবর, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) দেশে ধাপে ধাপে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট চালুর প্রস্তুতি শুরু করেছে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ২০২৭ সাল থেকেই নতুন ধরনের নোট সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছতে পারে।
সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে প্লাস্টিকের নোট বাজারে ছাড়া হবে। সেই পাইলট প্রকল্পের ফলাফলের উপর নির্ভর করেই ভবিষ্যতে অন্যান্য মূল্যমানের নোট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রথমে কোন নোট আসবে?
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ টাকা এবং ২০ টাকার নোট পলিমার উপাদানে তৈরি করা হবে। ছোট মূল্যমানের নোট বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। তাই এই দুটি নোট দিয়েই পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করতে চাইছে আরবিআই।
এর আগে একই মূল্যমানের কয়েন বাজারে আনা হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার ব্যবহার তেমন জনপ্রিয় হয়নি। সেই কারণেই ছোট নোটের বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিকের নোটকে সামনে আনা হচ্ছে।
কী হবে এরপর?
পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া নোট সাধারণ মানুষ কতটা গ্রহণ করছেন এবং সেগুলি ব্যবহারিক দিক থেকে কতটা সফল হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। ইতিবাচক ফল মিললে ২০২৭ সাল থেকে ধাপে ধাপে অন্যান্য মূল্যমানের নোটও পলিমারে রূপান্তর করা হতে পারে।
কেন প্লাস্টিকের নোট?
পলিমার নোটের সবচেয়ে বড় সুবিধা তার স্থায়িত্ব। কাগজের নোটের মতো সহজে ছিঁড়ে যায় না, ভিজলেও নষ্ট হয় না এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। ফলে একই নোট অনেক বেশি সময় প্রচলনে রাখা সম্ভব।
এর পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসে। কারণ কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট বারবার ছাপানোর প্রয়োজন হয় না। ফলে নোট মুদ্রণের খরচও কমতে পারে।
বিশ্বের বহু দেশেই ইতিমধ্যেই এই ধরনের নোট ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম পলিমার ব্যাঙ্কনোট চালু করে। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে প্লাস্টিকের নোট প্রচলিত রয়েছে।
যদিও ভারতে এই পরিকল্পনা এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও সফল হলে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় এটি একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।






