Rani Mukharjee: রানী মুখার্জি পেলেন বন্দে মাতরম পুরস্কার, তিরিশ বছরে ঘরে ফেরার আবেগে ভাসলেন অভিনেত্রী

On: Saturday, January 31, 2026 2:09 PM
---Advertisement---

Rani Mukharjee: তিন দশকের অভিনয় জীবন পূর্ণ হওয়ার বছরে যেন নিজের মাটিতে ফিরে এলেন রানী মুখোপাধ্যায় (Rani Mukharjee)। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানগুলির অন্যতম বন্দে মাতরম পুরস্কার পেয়ে আবেগে ভাসলেন অভিনেত্রী। রাজ্যপালের অ্যাওয়ার্ড অফ এক্সেলেন্স হিসেবে এই সম্মান গ্রহণ করে রানী জানালেন নিজের শিকড়ের কথা নিজের মূল্যবোধের কথা আর বাংলার সঙ্গে আজীবনের আত্মিক যোগের কথা।

পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় রানীর কণ্ঠে ধরা পড়ল সংযত অথচ গভীর অনুভূতি। তাঁর কথায় আজ হৃদয় এমন এক আবেগে ভরা যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অভিনয়ে তিরিশ বছরের মাথায় বন্দে মাতরম পুরস্কার পাওয়া তাঁকে আরও বিনম্র করেছে। এই সম্মান শুধুই তাঁর কাজের স্বীকৃতি নয় বরং বাংলার তরফ থেকে পাওয়া এক উষ্ণ আলিঙ্গন বলেই মনে করছেন তিনি। নিজের কাজের মাধ্যমে বাংলা তথা গোটা দেশকে গর্বিত করতে পেরেছেন কিনা সেই ভাবনাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

হিন্দি সিনেমায় দীর্ঘ কেরিয়ার গড়লেও রানীর আত্মপরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে যে বরাবরই বাংলা তা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। তাঁর মূল্যবোধ শৃঙ্খলা শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার ভিত যে এই মাটিতেই গড়ে উঠেছে তা অকপটে স্বীকার করেন অভিনেত্রী। জীবনকে দেখার যে দৃঢ় উষ্ণ অথচ সংযত দৃষ্টিভঙ্গি সেটাও বাংলারই দান বলে মনে করেন তিনি।

নিজের পরিবার বিশেষ করে মায়ের কথা বলতে গিয়ে আরও আবেগী হয়ে ওঠেন রানী। তিনি জানান এমন এক পরিবারে তিনি বড় হয়েছেন যেখানে সংস্কৃতি ছিল দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। গান সিনেমা গল্প আর বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মধ্যেই কেটেছে শৈশব। সেই সাংস্কৃতিক জগতের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তাঁর মা। বাবা মা গর্বিত বাঙালি হিসেবে তাঁকে শিখিয়েছেন যে শক্তি মানেই উচ্চস্বরে কথা বলা নয়। মর্যাদা আত্মসম্মান আর শান্ত ভঙ্গিতে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার শিক্ষা পেয়েছেন তাঁদের থেকেই। নিজের সাহস আর সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবেও তিনি তুলে ধরেন বাবা মায়ের জীবনদর্শনকে। তাই এই সম্মান যেমন তাঁর তেমনই তাঁর বাবা মায়েরও।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তবে দূরে থেকেও হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা জানান পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এমন একটি সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে তাঁকে সম্মানিত করার জন্য।

বাংলার ঐতিহ্য প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রানীর কণ্ঠে ফের শোনা যায় গর্ব। চিন্তক কবি বিদ্রোহী আর শিল্পীর দেশ বাংলা। রবীন্দ্রনাথ থেকে সত্যজিৎ এই মাটিই আমাদের ভাবনা আর অনুভূতির ভাষা তৈরি করে দিয়েছে। সেই বাংলার স্বীকৃতি তাঁর কাছে আজীবনের সম্পদ বলেই মনে করেন তিনি।

কৃতজ্ঞতা আর গর্বের সঙ্গে এই সম্মান গ্রহণ করে ভারতীয় সিনেমার প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা আরও দৃঢ় করার কথাও জানান রানী।

এদিকে অভিনয় জীবনের তিরিশ বছর পূর্তির বছরেই মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর বহু প্রতীক্ষিত ছবি মরদানি থ্রি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অভিরাজ মিনাওয়ালা এবং প্রযোজনায় রয়েছেন আদিত্য চোপড়া। সামাজিক বাস্তবতার কঠিন দিক তুলে ধরার যে ধারা মরদানি এবং মরদানি টু ছবিতে দেখা গিয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় নতুন ছবিতেও সমাজের আর এক অন্ধকার অধ্যায়কে সামনে আনতে চলেছেন নির্মাতারা।

ভারতের একমাত্র সফল মহিলা কেন্দ্রিক কপ ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে মরদানি ইতিমধ্যেই নিজের জায়গা পাকা করেছে। আগামী ত্রিশ জানুয়ারি দু হাজার ছাব্বিশ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে মরদানি থ্রি। আর সেই সঙ্গে তিন দশকের গৌরবময় কেরিয়ার উদযাপনে গোটা ইন্ডাস্ট্রিতেই যেন উৎসবের আবহ রানী মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now