বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি-র জন্মদিন মানেই ভক্তদের উচ্ছ্বাস, আর ইন্ডাস্ট্রির কাছের মানুষদের স্মৃতিচারণ। সেই স্মৃতির ভাঁড়ার থেকেই এক অন্য রানি মুখার্জিকে তুলে ধরলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়— যাঁর কাছে রানি শুধু তারকা নন, বরং পরিবারেরই এক সদস্য।
প্রসেনজিতের স্মৃতিতে ফিরে আসে ‘জানকি কুটীর’-এর দিনগুলি। তখন রানি মাত্র দুই-আড়াই বছরের শিশু। তাঁর বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং রানির বাবা রাম মুখোপাধ্যায়-সহ ইন্ডাস্ট্রির ঘনিষ্ঠদের আড্ডায় যাতায়াত ছিল। সেই সূত্রেই দুই পরিবারের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। ছোট্ট রানি আর তার দাদা রাজা— দু’জনেই প্রায়ই যেতেন প্রসেনজিতের বাড়িতে, খেলাধুলায় মেতে উঠত গোটা দল।

এই পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যেই রয়েছে এক মজার স্মৃতি। ছোটবেলায় রানি নাকি প্রসেনজিৎকে ‘বুম্বজ়’ বলে ডাকত। এমনকি একদিন নাকি তাঁর মাকে বলেছিল, “আমি বুম্বজকে বিয়ে করব।” উত্তরে বলা হয়েছিল, বড় হতে হতে বুম্বজ তো বুড়ো হয়ে যাবে! তখন শিশুসুলভ সরলতায় রানির জবাব— “গোদরেজ লাগা দেনা”— অর্থাৎ চুল পেকে গেলে রং করে নিলেই তো হল! আনন্দবাজার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের একথা তুলে ধরা হয়েছে

সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ বদলেছে, কিন্তু দূরত্ব তৈরি হয়নি। প্রসেনজিৎ-রানি সম্পর্কে ‘মেসো-ভাগ্নি’-র মতো ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় পরে। প্রসেনজিতের বিয়ে হয়েছিল দেবশ্রী রায়-এর সঙ্গে, আর সেই সূত্রেই তিনি হয়ে ওঠেন রানির ‘মেসো’। সেই সময়েই আসে বাংলা ছবি ‘বিয়ের ফুল’, যেখানে প্রথমবার অভিনয়ে পা রাখেন রানি মুখার্জি— আর তাঁর নায়ক ছিলেন প্রসেনজিৎ নিজেই।
শুটিংয়ের সময়েও ছিল মজার মুহূর্ত। রোমান্টিক দৃশ্য কীভাবে অভিনয় করতে হবে, তা বোঝাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন রানির বাবা। শেষমেশ সেই দায়িত্ব পড়ে প্রসেনজিতের উপরই। সেই থেকেই আরও দৃঢ় হয় তাঁদের সম্পর্ক।
আজ রানি মুখার্জি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী। তবু প্রসেনজিতের চোখে তিনি এখনও সেই ছোট্ট ‘পুতুল’। সম্প্রতি রানির মা কৃষ্ণা মুখার্জির ৭৫তম জন্মদিনের অনুষ্ঠান হোক বা কলকাতার কোনও অনুষ্ঠান— দেখা হলেই আগের মতোই প্রণাম করে, আদর করে কাছে টেনে নেন ‘বুম্বজ’।







