মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জেরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছিল। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে প্রভাব পড়ে। তার জেরেই একাধিক দেশে পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি এবং সিএনজির দাম বেড়েছিল। তবে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের খবর, জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাধাহীন জাহাজ চলাচলের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। যদিও পথ খুললেও এখনও ১২টি ভারতীয় জাহাজ ওই এলাকায় আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড তেলের দাম ইতিমধ্যেই কিছুটা নেমেছে। তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি বাজারেও। ১ জুলাই থেকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমেছে। পাশাপাশি পাঁচ কেজির রান্নার গ্যাস এবং বিমান জ্বালানির দামেও ছাড় মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামও আগামী দিনে কমতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও কেন্দ্র বা রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
বর্তমানে বহু শহরে পেট্রোলের দাম লিটারপিছু প্রায় ১১৩ টাকা এবং ডিজেলের দাম প্রায় ৯৯ টাকার কাছাকাছি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী থাকলে এবং সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্যও জ্বালানির দামে স্বস্তি আসতে পারে বলে মনে করছে বাজারের একাংশ।






