শুধু ভাবলেই হয়ে যাবে কাজ! মস্তিষ্কে চিপ বসাচ্ছে এলন মাস্কের সংস্থা

On: Saturday, August 1, 2026 10:57 PM
---Advertisement---

মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে সরাসরি কম্পিউটারের সংযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করছে ইলন মাস্কের সংস্থা নিউরালিঙ্ক। সেই গবেষণাতেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা শারীরিকভাবে নড়াচড়া করতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত কয়েক বছর ধরে মানবদেহে ব্রেন-চিপ প্রতিস্থাপনের পরীক্ষা চালাচ্ছে নিউরালিঙ্ক। তবে এই অস্ত্রোপচার অত্যন্ত জটিল। চিকিৎসকদের মতে, প্রথমে মাথার ত্বক সরিয়ে খুলির হাড়ে নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছতে হয়। এরপর মস্তিষ্কের সুরক্ষামূলক স্তর অতিক্রম করে চিপ প্রতিস্থাপন করতে হয়, যেখানে সামান্য ভুলও গুরুতর শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে।

প্রথম দিকের পরীক্ষায় সংস্থাকে একাধিক প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের সময় মস্তিষ্কের সুরক্ষামূলক স্তরের গঠন এবং তার নীচের টিস্যুর কারণে চিপ বসানো কঠিন হয়ে পড়ছিল। এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পরে জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও ছিল।

এই সমস্যার সমাধানে নিউরালিঙ্ক অস্ত্রোপচারের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে। সূত্রের দাবি, বর্তমানে এমন একটি বিশেষ তরল ব্যবহার করা হচ্ছে, যার সাহায্যে মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম স্নায়ুগুলি আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ফলে অস্ত্রোপচারের সময় স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে বিশেষভাবে তৈরি রোবোটিক সিস্টেম, যার ফলে অস্ত্রোপচারের সময়ও কমে এসেছে। বর্তমানে প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যেই চিপ প্রতিস্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

নিউরালিঙ্কের লক্ষ্য মূলত এমন ব্যক্তিদের সাহায্য করা, যাঁরা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে হাত বা পা ব্যবহার করতে পারেন না। মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপিত চিপ কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায়, শুধু চিন্তার মাধ্যমেই বিভিন্ন ডিজিটাল নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হতে পারে। এর ফলে কম্পিউটার ব্যবহার, বিভিন্ন অ্যাপ চালানো বা এমনকি ভিডিও গেম খেলাও হাতের স্পর্শ ছাড়াই করা যাবে।

এ ছাড়াও সংস্থার দাবি, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার সময়ও আগের তুলনায় অনেক কমেছে। যেখানে আগে কয়েক মাস সময় লাগত, সেখানে এখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রোগীরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারছেন বলে জানা গিয়েছে।

যদিও এই প্রযুক্তি এখনও গবেষণা ও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, তবু ভবিষ্যতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাশাপাশি মানব-কম্পিউটার যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now