হঠাৎ করেই বদলে গেল বহুদিনের সরকারি নিয়ম।
Nabanna Service Rule Change : রাজ্যের সরকারি কর্মী ও পেনশনারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। এতদিন বিয়ে হয়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েরা সরকারি কর্মীর ‘পরিবার’ সংজ্ঞার বাইরে চলে যেতেন। এবার সেই চিত্র পাল্টে দিল অর্থ দপ্তর।
নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিবাহিতা কন্যারাও সরকারি কর্মীর পরিবারের বৈধ সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন। সংবিধানের ৩০৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করেই এই সংশোধন কার্যকর করা হয়েছে।
ডেথ গ্র্যাচুইটিতে বড় স্বস্তি
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে ডেথ গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে। আগে বহু ক্ষেত্রে বিবাহিতা কন্যারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে তাঁদেরও পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রাপ্য সুবিধা দিতে হবে।
নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হবেন –
স্বামী বা স্ত্রী
পুত্র, সৎ পুত্র-সহ
কন্যা – অবিবাহিতা, বিবাহিতা, বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্না এবং সৎ কন্যা
পিতা ও মাতা
১৮ বছরের কম বয়সী ভাই
অবিবাহিতা বা বিধবা বোন
অর্থাৎ, কন্যার বৈবাহিক অবস্থা আর কোনও বাধা নয়।
সার্ভিস বুকে নাম কাটার প্রথা বন্ধ
প্রশাসনিকভাবে এতদিন মেয়ের বিয়ে হলে তাঁকে নির্ভরশীল তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার একটি প্রচলিত রীতি ছিল। অনেক ক্ষেত্রেই সার্ভিস বুক থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলা হতো।
অর্থ দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশে সেই প্রথা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। এখন স্পষ্ট নির্দেশ, বিয়ে হলেও সার্ভিস বুকে মেয়ের নাম নথিভুক্ত রাখতে হবে। বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তনের কারণে কোনওভাবেই নাম কাটা যাবে না।
সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই নির্দেশ জারি হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, সংশোধনের আগে বিবাহিতা বা বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যাকে ঘিরে যদি কোনও ডেথ গ্র্যাচুইটির আবেদন বা মামলা অমীমাংসিত থাকে, তবে নতুন নিয়ম মেনে তা পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক ফাইল এবার নিষ্পত্তির পথে এগোতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে মত। এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের অসংখ্য সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবার সরাসরি উপকৃত হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।






