কৃত্রিম মেধার দৌড়ে আরও বড় বাজি ধরছে মেটা। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের নিজস্ব এআই এজেন্ট থাকবে, যা দিন-রাত ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজ করবে। এমনই ভবিষ্যদ্বাণী করলেন মেটার সিইও Mark Zuckerberg। শুধু ভবিষ্যতের ছবি আঁকাই নয়, সেই লক্ষ্য পূরণে সংস্থা বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ করতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে প্রযুক্তি দুনিয়ায় শুধু চ্যাটবট নয়, আরও উন্নত এআই এজেন্ট তৈরির দিকে জোর দিচ্ছে বড় বড় সংস্থাগুলি। এই এজেন্টগুলি ব্যবহারকারীর অভ্যাস, প্রয়োজন এবং লক্ষ্য বুঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নানা কাজ করতে পারে। ব্যবহারকারী ব্যস্ত থাকলেও বা অফলাইনে থাকলেও তার হয়ে একাধিক কাজ সম্পন্ন করার ক্ষমতা রয়েছে এই প্রযুক্তির।
মেটার সর্বশেষ আয় সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশের সময় জ়ুকারবার্গ বলেন, “আমি মনে করি, সম্ভাবনা রয়েছে আগামী পাঁচ বছরে কোটি কোটি মানুষের ব্যক্তিগত এজেন্ট থাকবে। এমন এজেন্ট যা আপনার লক্ষ্য বোঝে এবং আপনার পছন্দের যে কোনও ক্ষেত্রে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে।”
তাঁর দাবি, আগামী দিনে মেটার নতুন প্রজন্মের পরিষেবা এবং আয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠবে এই ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট। তবে এই প্রযুক্তি তৈরি করতে বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে। বড় ভাষা মডেলের মতোই এআই এজেন্ট তৈরির ক্ষেত্রেও শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে হচ্ছে সংস্থাগুলিকে।
এই বিনিয়োগের প্রভাব ইতিমধ্যেই মেটার আর্থিক রিপোর্টে ধরা পড়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে তাদের ‘ফ্রি ক্যাশ ফ্লো’ বা পরিচালন ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পর হাতে থাকা নগদ অর্থ ৯১ শতাংশ কমে ৭৮.৪০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে সেই অঙ্ক ছিল ৮৫৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ, গত এক বছরে সংস্থাটি বিপুল পরিমাণ অর্থ এআই পরিকাঠামো গড়ে তুলতেই ব্যয় করেছে।
শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালের মূলধনী ব্যয়ের সর্বনিম্ন পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে মেটা। আগে যেখানে ১২,৫০০ কোটি ডলার খরচের পরিকল্পনা ছিল, তা সংশোধন করে ১৩,০০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর্থিক ফল প্রকাশের পর সংস্থার শেয়ারের দরে প্রায় ১০ শতাংশ পতনও দেখা যায়।
এআই প্রতিযোগিতায় অবশ্য মেটা একা নয়। গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেটও সম্প্রতি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন পর তাদের নগদ অর্থের উপর চাপ তৈরি হয়েছে। এআই প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে তারাও। ফলে আগামী কয়েক বছরে প্রযুক্তি জগতের এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
জ়ুকারবার্গ আরও জানিয়েছেন, এক সময় মেটার পরিকল্পনা ছিল অন্য সংস্থাগুলিকে কম্পিউটিং ক্ষমতা ভাড়া দেওয়ার। তবে এখন তাঁদের বিশ্বাস, শুধু কম্পিউটিং পরিষেবা নয়, সরাসরি এআইভিত্তিক পণ্য ও পরিষেবা থেকেই অনেক বেশি আয় সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে সংস্থার প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে মেটা তাদের মোট কম্পিউটিং ক্ষমতা ৭ গিগাওয়াটে উন্নীত করতে চায়। আগামী বছরে তা ১৪ গিগাওয়াটে পৌঁছানোর লক্ষ্যও নিয়েছে সংস্থা। বর্তমানে মেটার ৩২টি ডেটা সেন্টার চালু রয়েছে অথবা নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।






