১০ লক্ষের বাজেটে অটোমেটিক গাড়ি কিনবেন? Honda থেকে Maruti, থাকছে ৪ সেরা বিকল্প

On: Sunday, August 16, 2026 10:18 PM
---Advertisement---

ভারতের গাড়ির বাজারে অটোমেটিক গাড়ির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে শহরের যানজটে বারবার গিয়ার পরিবর্তনের ঝামেলা এড়াতে অনেকেই এখন অটোমেটিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন। তবে বাজেটের মধ্যে ভালো মাইলেজ, পর্যাপ্ত ফিচার, নিরাপত্তা এবং আরামদায়ক ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা একসঙ্গে পাওয়া সবসময় সহজ নয়।

১০ লক্ষ টাকার আশপাশের বাজেটে বর্তমানে বেশ কয়েকটি পেট্রল অটোমেটিক গাড়ি রয়েছে। কমপ্যাক্ট সেডান থেকে SUV কিংবা হ্যাচব্যাক, ক্রেতাদের জন্য রয়েছে একাধিক বিকল্প। Honda Amaze, Skoda Kylaq, Tata Punch এবং Maruti Suzuki Swift এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

Honda Amaze
আরামদায়ক রাইড, স্মুথ অটোমেটিক গিয়ারবক্স এবং প্রিমিয়াম অনুভূতির জন্য Honda Amaze দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। V Petrol Automatic ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৯.৮১ লক্ষ টাকা এক্স শোরুম। ফলে ১০ লক্ষ টাকার বাজেটের মধ্যে একটি আরামদায়ক এবং ফিচার সমৃদ্ধ সেডান খুঁজছেন এমন পরিবারের জন্য এটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।

Honda Amaze এ রয়েছে ১.২ লিটারের পেট্রল ইঞ্জিন এবং CVT অটোমেটিক গিয়ারবক্স। এর সঙ্গে প্যাডেল শিফটারও রয়েছে। গাড়ির উল্লেখযোগ্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে ফ্লোটিং টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, ক্রুজ কন্ট্রোল এবং Honda Sensing ADAS প্রযুক্তি।

ইঞ্জিনের মসৃণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি CVT গিয়ারবক্স শহরের রাস্তায় গাড়ি চালানোকে তুলনামূলকভাবে সহজ করে। সংস্থার দাবিকৃত হিসাবে অটোমেটিক ভ্যারিয়েন্টে প্রায় ১৯.৪৬ কিলোমিটার প্রতি লিটার মাইলেজ পাওয়া যেতে পারে।

Skoda Kylaq
SUV পছন্দ করেন এমন ক্রেতাদের জন্য Skoda Kylaq অন্যতম বিকল্প। শক্তপোক্ত বিল্ড কোয়ালিটি এবং জার্মান ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য ইতিমধ্যেই ভারতীয় বাজারে পরিচিতি তৈরি করেছে এই সাব কমপ্যাক্ট SUV।

১০ লক্ষ টাকার বাজেটের মধ্যে Classic Plus AT ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৯.২৫ লক্ষ টাকা এক্স শোরুম। এতে রয়েছে ১.০ লিটারের TSI টার্বো পেট্রল ইঞ্জিন, যা ৬ স্পিড অটোমেটিক ট্রান্সমিশনের সঙ্গে যুক্ত।

পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নিরাপত্তার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাড়িতে ৬টি স্ট্যান্ডার্ড এয়ারব্যাগ, Electronic Stability Control এবং শক্তপোক্ত চ্যাসিস রয়েছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, অটোমেটিক ভ্যারিয়েন্টে প্রায় ১৯.০৫ কিলোমিটার প্রতি লিটার মাইলেজ পাওয়া যায়।

Tata Punch
কম বাজেটে SUV এর মতো ডিজাইন এবং বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স চান এমন ক্রেতাদের জন্য Tata Punch বেশ জনপ্রিয়। এর অটোমেটিক রেঞ্জ Pure Plus AMT ভ্যারিয়েন্ট দিয়ে শুরু হয়। এই মডেলের দাম প্রায় ৭.৫৪ লক্ষ টাকা এক্স শোরুম।

Punch এ রয়েছে ১.২ লিটারের Revotron পেট্রল ইঞ্জিন এবং ৫ স্পিড AMT গিয়ারবক্স। ফলে তুলনামূলক কম বাজেটেই অটোমেটিক গাড়ির সুবিধা পাওয়া যায়।

ফিচারের তালিকায় রয়েছে টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে, রেন সেন্সিং ওয়াইপার, অটোমেটিক হেডল্যাম্প এবং ক্রুজ কন্ট্রোল। নিরাপত্তার জন্য ডুয়াল এয়ারব্যাগও রয়েছে।

ড্রাইভিং পরিস্থিতি এবং রাস্তার উপর নির্ভর করে অটোমেটিক ভ্যারিয়েন্টে প্রায় ১৮.৮ থেকে ২০.০৯ কিলোমিটার প্রতি লিটার পর্যন্ত ক্লেমড মাইলেজ পাওয়া যেতে পারে।

Maruti Suzuki Swift
অটোমেটিক গাড়ির মধ্যে তুলনামূলক কম দামের বিকল্প খুঁজলে Maruti Suzuki Swift নজরে আসতে পারে। স্পোর্টি ডিজাইন, সহজ ড্রাইভিং এবং ভালো রিসেল ভ্যালুর জন্য Swift দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় গাড়ি ক্রেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়।

Swift এর VXi AMT ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৭.০৪ লক্ষ টাকা থেকে শুরু হয়ে ZXi Plus AMT ভ্যারিয়েন্টে প্রায় ৮.৬৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যায়। ফলে ১০ লক্ষ টাকার বাজেটের মধ্যেই একাধিক অটোমেটিক ভ্যারিয়েন্ট বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নতুন প্রজন্মের Swift এ রয়েছে ১.২ লিটারের Z Series থ্রি সিলিন্ডার পেট্রল ইঞ্জিন। নিরাপত্তার জন্য সব ভ্যারিয়েন্টে ৬টি এয়ারব্যাগ, Hill Hold Assist এবং ESP স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি Suzuki Connect এবং বড় টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেমও রয়েছে।

মাইলেজের ক্ষেত্রে Swift এই তালিকায় এগিয়ে। সংস্থার দাবিকৃত হিসাবে এর অটোমেটিক ভ্যারিয়েন্ট প্রায় ২৫.৭৫ কিলোমিটার প্রতি লিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে পারে।

কোন গাড়ি কার জন্য
১০ লক্ষ টাকার মধ্যে অটোমেটিক গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও একটি মডেলকে সবার জন্য সেরা বলা কঠিন। আরামদায়ক সেডান চাইলে Honda Amaze, SUV এর মতো গাড়ি চাইলে Skoda Kylaq, তুলনামূলক কম বাজেটে বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স চাইলে Tata Punch এবং মাইলেজ ও সহজ ড্রাইভিংকে অগ্রাধিকার দিলে Maruti Suzuki Swift বিবেচনা করা যেতে পারে।

তবে গাড়ি কেনার আগে শুধু এক্স শোরুম দাম বা কোম্পানির দাবিকৃত মাইলেজ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। অন রোড দাম, ইনস্যুরেন্স, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, বাস্তব মাইলেজ, ফিচার এবং নিজের ব্যবহারের ধরন মিলিয়ে গাড়ি বেছে নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ির দাম এবং ভ্যারিয়েন্টের বৈশিষ্ট্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বুকিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ডিলারের কাছ থেকে বর্তমান দাম ও স্পেসিফিকেশন যাচাই করে নেওয়া উচিত।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now