ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম আরও একবার সোনার অক্ষরে লিখে ফেললেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে শেষ ষোলোয় Inter Miami CF-এর হয়ে মাঠে নেমে কেরিয়ারের ৯০০তম গোলের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেললেন তিনি। দীর্ঘদিনের অসাধারণ ধারাবাহিকতা ও নিখুঁত ফুটবল বুদ্ধিমত্তার ফল হিসেবেই এই বিরল মাইলফলক।
ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটেই নিজের উপস্থিতির জানান দেন মেসি। বক্সের ভিতরে বল পেয়ে নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে এনে বাঁ পায়ের নিচু শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। সেই মুহূর্তেই স্পষ্ট হয়ে যায়, বড় মঞ্চে বড় পারফরম্যান্স দেওয়ার অভ্যাস এখনও অটুট। গোলটি শুধু ম্যাচের সূচনা বদলায়নি, বরং তাঁর কেরিয়ারের নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়ার সাক্ষী থেকেছে।
৯০০ গোলের এই যাত্রা কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, বরং এক যুগের পর যুগ ধরে ফুটবলকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার গল্প। FC Barcelona-এ তাঁর সোনালি অধ্যায়, যেখানে ৬৭২টি গোল এসেছে ৭৭৮ ম্যাচে, আজও ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এরপর Paris Saint-Germain-এ স্বল্প সময়ের মধ্যেই নিজের ছাপ রেখে গেছেন। বর্তমানে Inter Miami CF-এও একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছেন তিনি।
জাতীয় দলের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান সমান উজ্জ্বল। Argentina national football team-এর জার্সিতে ১০০-র বেশি গোল করে দেশের ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মেসি।
বিশ্ব ফুটবলে ৯০০ গোলের ক্লাব অত্যন্ত সীমিত। সেখানে এত কম ম্যাচে পৌঁছে যাওয়া মেসির দক্ষতা ও ধারাবাহিকতারই প্রমাণ। দলগত ব্যর্থতার আড়ালেও ব্যক্তিগত মাইলফলকে উজ্জ্বল মেসি। ৯০০ গোলের ক্লাবে এতদিন একাই ছিলেন রোনাল্দো, এবার সেখানে যোগ দিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, রোনাল্দো যেখানে ৩৯ বছর বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন, মেসি তা করে ফেললেন তুলনামূলক কম বয়সে এবং কম ম্যাচ খেলে।
মেসির এই ৯০০ গোলের যাত্রা নিজেই এক ইতিহাস। এর মধ্যে ৬৭২টি গোল এসেছে FC Barcelona-র জার্সিতে ৭৭৮ ম্যাচে। Paris Saint-Germain-এর হয়ে ৭৫ ম্যাচে করেছেন ৩২ গোল। বর্তমানে মায়ামির হয়ে ৯৩ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৮১। আর জাতীয় দল Argentina national football team-এর হয়ে ১৯৬ ম্যাচে করেছেন ১১৫ গোল।
এই মাইলফলক প্রমাণ করে, সময় যতই এগিয়ে যাক, মেসির ফুটবল এখনও প্রাসঙ্গিক, এখনো প্রভাবশালী। ৯০০ গোল কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি এক অবিশ্বাস্য কেরিয়ারের প্রতিফলন, যা আগামী প্রজন্মের কাছে হয়ে থাকবে অনুপ্রেরণার উৎস।








