বিদ্যুৎ চলে গেলেও কি সোলার প্যানেল থেকে আলো জ্বলবে?
এই প্রশ্নের উত্তর বদলে দিতে বাজারে এলো Jio Spark Micro inverter। ভারতে দ্রুত বাড়তে থাকা সোলার চাহিদার মাঝে নতুন এই প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই আলোচনায়।
সাধারণ অন-গ্রিড সিস্টেমে গ্রিড সরবরাহ বন্ধ হলেই পুরো সোলার সেটআপ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে প্যানেল বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও তা ব্যবহার করা যায় না। নতুন মাইক্রো ইনভার্টার সেই সমস্যার সমাধান দেওয়ার দাবি করছে।
কোম্পানির মতে, গ্রিড সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও এই ডিভাইস বাড়ির প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোড চালাতে সক্ষম। যেমন লাইট, ফ্যান, ওয়াই-ফাই, ল্যাপটপ চার্জিং ইত্যাদি কয়েক ঘণ্টা নির্বিঘ্নে চালানো যাবে।
বর্তমানে ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার মডেল বাজারে আনা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে ২.৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত সোলার প্যানেল যুক্ত করা সম্ভব। ৬৫০ থেকে ৭০০ ওয়াট ক্ষমতার চারটি বড় প্যানেল যুক্ত করেই এই আউটপুট পাওয়া যাবে।
ডিভাইসে রয়েছে ৪টি আলাদা MPPT। অর্থাৎ প্রতিটি প্যানেল স্বাধীনভাবে কাজ করবে। একটি প্যানেলে ছায়া পড়লেও অন্য প্যানেলগুলি পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে যাবে। যেসব বাড়িতে ছায়া সমস্যা থাকে, তাদের জন্য এটি বড় সুবিধা।
নিরাপত্তার দিক থেকেও এটি উল্লেখযোগ্য। স্ট্রিং ইনভার্টারে ভোল্টেজ ৫০০ ভোল্ট পর্যন্ত পৌঁছালেও এই মাইক্রো ইনভার্টার প্রতি MPPT মাত্র ৫০ থেকে ৬০ ভোল্টে কাজ করে। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
ভবিষ্যতে প্রয়োজন বাড়লে সহজেই ক্ষমতা বাড়ানো যাবে। এখন ২ কিলোওয়াট ইনস্টল করে পরে আরও ২ কিলোওয়াট যোগ করে ৪ কিলোওয়াটে উন্নীত করা সম্ভব। বড় কমার্শিয়াল সেটআপেও ৫০ থেকে ১০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত মাইক্রো ইনভার্টার সংযোগ করা যায়।
দামের দিক থেকে শুরু প্রায় ৪০,০০০ টাকা। স্মার্ট মনিটরিং ডিভাইসের জন্য আলাদা প্রায় ১০,০০০ টাকা খরচ হয়, যেখানে ৩ বছরের অ্যাপ সাবস্ক্রিপশন অন্তর্ভুক্ত। ইনভার্টারে মিলছে ১২ বছরের ওয়ারেন্টি এবং IP65 রেটিং।
বাজারে অন্যান্য ব্র্যান্ডের মাইক্রো ইনভার্টার তুলনামূলক কম দামে মিললেও গ্রিড না থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধা সাধারণত থাকে না। এই কারণেই নতুন এই সিস্টেমকে অনেকেই সোলার সেক্টরে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।








