বেতন কম হলেও ITR জমা বাধ্যতামূলক! দেখে নিন আপনি এই তালিকায় আছেন কি না

On: Sunday, July 5, 2026 1:42 PM
---Advertisement---

আয় কম হলে বা করের পরিমাণ শূন্য হলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই— এমন ধারণা এখনও অনেকের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু আয়কর আইনের নিয়ম বলছে, শুধু আয়ের পরিমাণ নয়, নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য শর্তের ভিত্তিতেও আইটিআর (Income Tax Return) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে। ফলে কর দিতে না হলেও অনেক ক্ষেত্রে রিটার্ন ফাইল করা এড়ানোর সুযোগ নেই।

আয়কর দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও আর্থিক বছরে এক বা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ১ কোটি টাকার বেশি নগদ জমা হলে আইটিআর জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, এক বা একাধিক সেভিংস অ্যাকাউন্টে মোট ৫০ লক্ষ টাকার বেশি জমা হলেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

বিদেশ সফর বা বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট শর্ত। যদি কোনও আর্থিক বছরে নিজের বা অন্য কারও বিদেশ ভ্রমণের জন্য ২ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করা হয়, অথবা বছরে বিদ্যুতের বিল ১ লক্ষ টাকার বেশি হয়, তাহলে রিটার্ন ফাইল করা বাধ্যতামূলক।

ব্যবসায়ী এবং পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেও আলাদা নিয়ম রয়েছে। কোনও ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভার ৬০ লক্ষ টাকার বেশি হলে আইটিআর জমা দিতে হবে। অন্যদিকে চিকিৎসক, কনসালট্যান্ট, ফ্রিল্যান্সার-সহ অন্যান্য পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক পেশাগত আয় ১০ লক্ষ টাকার বেশি হলে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।

টিডিএস বা টিসিএস কাটা হলেও আইটিআর জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কোনও আর্থিক বছরে মোট টিডিএস বা টিসিএস ২৫ হাজার টাকা বা তার বেশি হলে রিটার্ন ফাইল করতে হবে। প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৫০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া ভারতের কোনও বাসিন্দার বিদেশে সম্পত্তি থাকলে, বিদেশি সম্পদের সুবিধাভোগী হলে অথবা বিদেশের কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অনুমতি থাকলেও আইটিআর জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্থার ইএসওপি-র মাধ্যমে প্রাপ্ত শেয়ারও এই নিয়মের আওতায় পড়তে পারে।

অনেকেই মনে করেন, আয়কর আইনের সেকশন ৮৭এ-র অধীনে কর ছাড় পাওয়ার ফলে করের অঙ্ক শূন্য হয়ে গেলে আইটিআর জমা দেওয়ার প্রয়োজন থাকে না। বাস্তবে এই ধারণা সঠিক নয়। এই ধারায় করের পরিমাণে ছাড় মিললেও রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি মেলে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত কাটা টিডিএস ফেরত পাওয়া, ভবিষ্যতের জন্য মূলধনী বা ব্যবসায়িক ক্ষতির সুবিধা বহাল রাখা এবং আয়ের সরকারি নথি হিসেবে রেকর্ড তৈরি করতে সময়মতো আইটিআর জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইটিআর জমা না দিলে জরিমানার মুখেও পড়তে হতে পারে। আয়কর আইনের সেকশন ২৩৪এফ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য হতে পারে। তবে মোট আয় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে সর্বোচ্চ জরিমানা ১,০০০ টাকা। কর বকেয়া থাকলে সেকশন ২৩৪এ অনুযায়ী অতিরিক্ত সুদও দিতে হতে পারে।

এ ছাড়া রিটার্ন জমা না দিলে আয়কর রিফান্ড পেতে দেরি, ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক বা মূলধনী ক্ষতির সুবিধা হারানো এবং হোম লোন, শিক্ষা ঋণ বা বিদেশে ভিসার আবেদনের সময় সমস্যার মতো জটিলতাও তৈরি হতে পারে। তাই কর না থাকলেও নিজের ক্ষেত্রে আইটিআর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না, তা আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now