বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে জোর কদমে শুরু হয়েছে SIR সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজ। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই নজিরবিহীন গতি এসেছে। ১৭ মার্চ একদিনেই সর্বোচ্চ প্রায় ২ লক্ষ অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে, যা এই পর্যায়ের কাজের ক্ষেত্রে রেকর্ড বলেই মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, মোট ৭১০ জন বিচারকের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত মোট নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগের সংখ্যা ২২ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে ১.৫ লক্ষ করে অভিযোগের নিষ্পত্তি হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
আধিকারিকদের একাংশের মতে, এই গতিতে কাজ চলতে থাকলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সম্পূর্ণ অ্যাডজুডিকেশন প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে ভোটের মনোনয়ন পর্ব চলাকালীনই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটতে পারে।
এদিকে, অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজে আরও গতি আনতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে ট্রাইবুনাল গঠনের ভাবনাও সামনে এসেছে। প্রায় ১০ থেকে ১২ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মতামত ইতিমধ্যেই চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের নাম অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এই তালিকা কবে প্রকাশ করা হবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে হাইকোর্টের আলোচনা চলছে। কমিশন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, নির্বাচনের দফা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। সেই অনুযায়ী, দুই দফার ভোটের প্রেক্ষিতে দু’দফাতেই তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, জাতীয় নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে। রাজ্যে দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদলও নজরে পড়েছে। মুখ্যসচিবের পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরানো হয়েছে। একইসঙ্গে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কোনও নির্বাচনী কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে SIR নিষ্পত্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস—দুইই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন।






