Iran Middle East War Impact: পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে সংঘাত ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি শান্ত হবে বলে যে ধারণা ছিল, তা এখন ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। বরং ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে এবং এর প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা আরামকোর রাস তানুরা (Ras Tanura) রিফাইনারি, যা বিশ্বের অন্যতম বড় তেল পরিশোধনাগার, হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫.৫ লক্ষ ব্যারেল ক্রুড অয়েল রপ্তানি করা হয়। হামলার পর নিরাপত্তার কারণে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে।
এই সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরাক, কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলির তেল রপ্তানি এই পথের উপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের উপরও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যেই এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একদিনে প্রায় ৭.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য এক মাসের জন্যও ব্যাহত হয়, তাহলে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ভারতের জন্যও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশের মোট তেল চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে সংঘাত ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইরান এখন সেই সব দেশকে লক্ষ্যবস্তু করছে যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—যেমন বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। একই সময়ে হিজবুল্লাহ ইজরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে এবং পাল্টা ইজরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু তেল ও গ্যাসের বাজারই নয়, গোটা বিশ্ব অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও জ্বালানি সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।





