ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এর জেরে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
LPG Supply Crisis: সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে LPG সরবরাহে। ভারতের মোট LPG আমদানির প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আসে আরব দেশগুলি থেকে, যার বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশে LPG-র ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
ব্লুমবার্গের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপে গ্যাসের দামে ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব ভারতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
LNG-র ক্ষেত্রেও উদ্বেগ
শুধু LPG নয়, LNG সরবরাহও ঝুঁকির মুখে। দেশের প্রয়োজনের প্রায় ৬০ শতাংশ LNG একই রুট দিয়ে আমদানি করা হয়। বড় কোনও বিকল্প মজুত না থাকায় দ্রুত নতুন উৎস খোঁজা প্রয়োজন হতে পারে।
এর মধ্যে কাতার ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ LNG রপ্তানি কেন্দ্রের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। কাতার বিশ্বে পঞ্চম বৃহত্তম LNG উৎপাদক। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা বেড়েছে।
পেট্রোল-ডিজেল নিয়ে তাৎক্ষণিক দুশ্চিন্তা কম
পেট্রোল ও ডিজেলের ক্ষেত্রে আপাতত পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তির। ভারতের কাছে ৭০ থেকে ৮০ দিনের মজুত রয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরব থেকেও বড় পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকারি তৎপরতা
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বিকল্প উৎস ও সরবরাহের পথ খুঁজতে তৎপর হয়েছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে LPG ও LNG সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। যার সরাসরি প্রভাব পড়বে গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দামে।





