মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তৃতীয় দিনে পড়তেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইরান সরাসরি সৌদি আরব ও কাতারের জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জেরে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
Iran Attack on Saudi Qatar Energy: সৌদি আরবের রাস তানুরা রিফাইনারিতে ড্রোন হামলার পর উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই রিফাইনারির দৈনিক পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় ৫.৫ লক্ষ ব্যারেল। ফলে আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একইসঙ্গে কাতারের রাস লাফফান ও মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অবস্থিত LNG উৎপাদন কেন্দ্রেও হামলার খবর মিলেছে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে LNG উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। রাস লাফফান বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ LNG রপ্তানি কেন্দ্র, যেখানে বৈশ্বিক LNG উৎপাদনের বড় অংশ তৈরি হয়।
ভারতের উপর প্রভাব
ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও বড় অংশের LNG আমদানি করে। কাতার ভারতের অন্যতম প্রধান LNG সরবরাহকারী। ফলে সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে ভারতের জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।
দামে উল্লম্ফন
সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮২ ডলারের ওপরে পৌঁছেছে। ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এশিয়াতেও স্পট LNG-র দাম ঊর্ধ্বমুখী।
সরকারের নজরদারি
ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সৌদি ও কাতারের বড় এনার্জি কেন্দ্রগুলিতে হামলার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।





