নীরবে বদলে গেল গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। আর তাতেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।
India US Trade Deal ঘিরে হোয়াইট হাউস প্রকাশিত ফ্যাক্টশিটে চুপিসারে আনা হয়েছে একাধিক পরিবর্তন। নথি প্রকাশের মাত্র এক দিনের মধ্যেই বদলে ফেলা হয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ লাইন ও শর্ত।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়েছে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনা সংক্রান্ত অংশে। প্রথম সংস্করণে বলা হয়েছিল, ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মার্কিন পণ্য কেনার জন্য “কমিট” করছে। কিন্তু নতুন সংস্করণে সেই শব্দ বদলে করা হয়েছে “কেনার ইরাদা রাখে”। ফলে চুক্তির বাধ্যবাধকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আগের ফ্যাক্টশিটে কী ছিল?
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে ঘোষিত অন্তর্বর্তী বাণিজ্য কাঠামোর পর হোয়াইট হাউস একটি ফ্যাক্টশিট প্রকাশ করে। সেখানে উল্লেখ ছিল, ভারত সমস্ত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং একাধিক খাদ্য ও কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমাবে বা তুলে দেবে।
প্রথম সংস্করণে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা এবং অন্যান্য পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নতুন সংস্করণে কী বদলানো হয়েছে?
হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে আপডেট হওয়া নথিতে “কমিট” শব্দটি সরিয়ে “ইরাদা” ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি পণ্যের তালিকা থেকে “কৃষি” শব্দটিও বাদ দেওয়া হয়েছে।
আগের নথিতে যেসব পণ্যের উল্লেখ ছিল ড্রাই ডিস্টিলার্স গ্রেইনস, পশুখাদ্যের জন্য রেড জোয়ার, ড্রাই ফ্রুট, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, কিছু ডাল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও স্পিরিটস সেখানে নতুন সংস্করণে “কিছু ডাল” অংশটি আর নেই।
ডিজিটাল ট্যাক্স নিয়েও বদল
আগে বলা হয়েছিল, ভারত ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স প্রত্যাহার করবে এবং ডিজিটাল বাণিজ্য সংক্রান্ত বাধা দূর করতে শক্তিশালী নিয়মে সম্মত হবে। কিন্তু নতুন ফ্যাক্টশিটে ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স প্রত্যাহারের কোনও উল্লেখ নেই। শুধু বলা হয়েছে, ভারত দ্বিপাক্ষিক ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ম নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত।
দুই দেশের মধ্যে কী চূড়ান্ত হয়েছে?
গত সপ্তাহে ভারত ও আমেরিকা একটি অন্তর্বর্তী ট্রেড ডিলের কাঠামো ঘোষণা করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে।
এর বদলে ভারত মার্কিন শিল্পপণ্য ও একাধিক খাদ্যপণ্যের উপর শুল্ক কমাবে বা তুলে দেবে। তালিকায় রয়েছে ড্রাই ডিস্টিলার্স গ্রেইনস, রেড জোয়ার, ড্রাই ফ্রুট, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও স্পিরিটস।
৫০০ বিলিয়ন ডলারের কেনার পরিকল্পনা
যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে ভারত প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি পণ্য, বিমান ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি সামগ্রী এবং কোকিং কয়লা আমেরিকা থেকে কেনার পরিকল্পনা করছে। তবে “প্রতিশ্রুতি” শব্দ বাদ পড়ায় এই অংশের বাধ্যতামূলক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ট্রাম্পের বড় সিদ্ধান্ত
চুক্তির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক তুলে নিয়েছেন। রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত এই বিষয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে।
কবে সই হবে চূড়ান্ত চুক্তি?
নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি চূড়ান্ত ট্রেড ডিলে সই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সংশোধিত শব্দচয়ন ঘিরে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।






