ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সময় রান্নার গ্যাসের সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি আর চাইছে না কেন্দ্র। ভবিষ্যতে কোনও আন্তর্জাতিক সঙ্কটের প্রভাব যাতে দেশের এলপিজি (LPG) সরবরাহে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ভারত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমেরিকা থেকে এলপিজি আমদানির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করা হতে পারে।
বর্তমানে ভারত বছরে প্রায় ২২ লক্ষ টন এলপিজি আমেরিকা থেকে আমদানি করে। তবে সেই পরিমাণ আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে বিদ্যমান এলপিজি সরবরাহ চুক্তির পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্র সক্রিয়ভাবে ভাবছে।
শুধু আমেরিকার উপর নির্ভর করেই থেমে থাকতে চাইছে না ভারত। সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলি আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, নাইজেরিয়া এবং মালয়েশিয়ার মতো দেশ থেকেও এলপিজি আমদানির নতুন সুযোগ খতিয়ে দেখছে। লক্ষ্য একটাই—কোনও একটি অঞ্চল বা দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো।
এই নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরেই। সেই সময় আমেরিকার সঙ্গে এক বছরের একটি কাঠামোবদ্ধ চুক্তি করে ভারত। পরিকল্পনা ছিল, ২০২৬ সালে দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ আমেরিকা থেকে আমদানি করা হবে।
পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায় পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত হয়। সেই সময় ভারতের বিকল্প ভরসা হয়ে ওঠে আমেরিকা।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা Kpler-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের মোট এলপিজি আমদানির ৮ শতাংশেরও কম এসেছিল আমেরিকা থেকে। কিন্তু ২০২৬ সালের শুরু থেকেই সেই অংশ দ্রুত বাড়তে থাকে। জানুয়ারিতে তা দাঁড়ায় ১২ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে ১৩ শতাংশ এবং মার্চে বেড়ে হয় ৩৭ শতাংশ।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার পর এপ্রিল মাসে এই অংশ বেড়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছায়। মে মাসে তা হয় ৫৫ শতাংশ এবং জুনে রেকর্ড ৬৫ শতাংশ এলপিজি আমদানি আসে আমেরিকা থেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে শুধু দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাই শক্তিশালী হবে না, বরং আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কও আরও মজবুত হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রেও এই পদক্ষেপ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।






