India Iran Relations: ভারত ও ইরানের সম্পর্ক বহু শতাব্দী পুরনো। ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও বাণিজ্যের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। তবে আধুনিক কূটনীতির ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক সবসময় সরল বা একমুখী ছিল না।
২০১৬ সালে ইরান সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, ভারত ও ইরানের সম্পর্ক ইতিহাসের মতোই পুরনো। সমাজ, শিল্প, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্যের মাধ্যমে দুই দেশের যোগাযোগ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে উঠেছে।
ভারতের স্বাধীনতার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ১৯৫০ সালের ১৫ মার্চ। সেদিন ভারত ও ইরান একটি Friendship Treaty তে সই করে, যার মাধ্যমে শান্তি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন-রাশিয়ার প্রভাব এই সম্পর্ককে নানা ভাবে প্রভাবিত করেছে।
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়ও এই সম্পর্কের জটিলতা দেখা গেছে। ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ইরান পাকিস্তানকে কিছু সামরিক সহায়তা দিয়েছিল বলে বিভিন্ন নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কখনও প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়নি।
১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই সময়ে শাহের শাসনের অবসান ঘটে এবং আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরপরও বিভিন্ন সময়ে ভারত ও ইরান কৌশলগতভাবে সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানে তালিবান বিরোধী নর্দার্ন অ্যালায়েন্সকে সমর্থনের ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করেছিল।
ভারত-ইরান সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ১৯৯৪ সালে। সেই সময় পাকিস্তান ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনার চেষ্টা করেছিল।
কিন্তু ইরানের ভূমিকার কারণে সেই প্রস্তাব সফল হয়নি। অনেকের মতে, ইরানের এই অবস্থান ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য ছিল।
পরবর্তীতে ২০০১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী ইরান সফর করেন। তখন দুই দেশের মধ্যে তেহরান ডিক্লারেশন স্বাক্ষরিত হয়, যা কৌশলগত অংশীদারিত্ব, জ্বালানি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেয়।
এর পাশাপাশি চাবাহার বন্দর প্রকল্প ভারত-ইরান সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বন্দর ব্যবহার করে পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর নতুন বাণিজ্য পথ তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও ইরানের সম্পর্কের তিনটি স্তর রয়েছে। প্রথমটি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা, দ্বিতীয়টি অর্থনীতি ও জ্বালানি নির্ভর বাস্তব সহযোগিতা এবং তৃতীয়টি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া কৌশলগত প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিবর্তনের কারণে এই সম্পর্ক আবার নতুন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ভবিষ্যতে বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভারত-ইরান সম্পর্কের দিকও নতুনভাবে নির্ধারিত হতে পারে।






