মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক সোনার বাজারেও। তার জেরে এখন দুবাইয়ে সোনা লন্ডনের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। CNBC-TV18-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে।
খবরে বলা হয়েছে, ইরান ইজরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে চলা সংঘাতের কারণে বিমান চলাচল অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দুবাইয়ের বাজারে সোনার সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু চাহিদা সেই তুলনায় কম। ফলে দামেও পড়েছে প্রভাব। আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সোনা বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দুবাই থেকে সাধারণত ভারত সুইজারল্যান্ড এবং হংকংয়ের মতো দেশে সোনা রফতানি করা হয়। কিন্তু পরিবহণে সমস্যার কারণে এখন সেই স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা তৈরি হয়েছে।
দুবাইয়ের এক সোনা ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে সোনা ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে এবং লন্ডনের তুলনায় প্রতি আউন্সে প্রায় ১০ থেকে ৩০ ডলার কম দামে লেনদেন হচ্ছে। এর প্রধান কারণ চাহিদার ঘাটতি।
দামের তুলনায় পার্থক্যও এখন স্পষ্ট। ভারতে যেখানে দশ গ্রাম খাঁটি সোনার দাম প্রায় এক লক্ষ তেষট্টি হাজার টাকার কাছাকাছি, সেখানে দুবাইয়ে একই পরিমাণ সোনার দাম অনেকটাই কম। এই কারণে অনেক যাত্রী বিদেশ থেকে সোনা কেনার কথা ভাবছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সোনা কেনার আগে এবং দেশে আনার সময় নির্দিষ্ট নিয়ম জানা জরুরি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী পুরুষ যাত্রীরা নির্দিষ্ট শর্তে কুড়ি গ্রাম পর্যন্ত এবং মহিলা যাত্রীরা চল্লিশ গ্রাম পর্যন্ত সোনার গয়না শুল্ক ছাড়াই আনতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন বৈধ বিল। এর বেশি সোনা আনলে কাস্টমসে তা ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক। নিয়ম ভাঙলে জরিমানা বা সোনা বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিদেশ থেকে সোনা কেনার আগে আন্তর্জাতিক বাজারদর যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি সোনার বিশুদ্ধতার সার্টিফিকেট এবং সমস্ত কেনাকাটার নথি সঙ্গে রাখা প্রয়োজন, কারণ ভারতে কাস্টমস পরীক্ষার সময় তা দেখাতে হতে পারে।
ডিসক্লেইমার: এই তথ্য সাধারণ সচেতনতার জন্য। সোনা কেনা এবং দেশে আনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন এবং শুল্কের নিয়ম মেনে চলাই বাঞ্ছনীয়।







