পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে গণনার এই প্রেক্ষাপটে ফের আলোচনায় উঠে আসছে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম। জানেন কীভাবে এই ইভিএম-এর পথচলা শুরু?
ইভিএমের সূচনা: পরীক্ষামূলক থেকে বাস্তব প্রয়োগ
ভারতে ইভিএম ব্যবহারের ইতিহাস শুরু হয় ১৯৮০-র দশকে। ১৯৮২ সালে কেরালা-র একটি উপনির্বাচনে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। তবে সেই সময় আইনি কাঠামো স্পষ্ট না থাকায় এই উদ্যোগ বিতর্কের মুখে পড়ে।
পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন সংশোধন করে ইভিএম ব্যবহারের পথ সুগম করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলতে থাকে।
দেশজুড়ে প্রয়োগ: ২০০৪-এ পূর্ণ রূপ
২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রথমবার সারা দেশে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। এটি ছিল ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন। কাগজের ব্যালটের বদলে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ায় ভোটের গতি বাড়ে, ভুল কমে এবং ফল ঘোষণার সময়ও কমে আসে।
প্রযুক্তির ভিত: দেশীয় নির্মাণ
ভারতে ব্যবহৃত ইভিএম তৈরি করে দুটি সরকারি সংস্থা—ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড এবং ইলেকট্রনিক্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড। এই মেশিনগুলি সম্পূর্ণ অফলাইন, অর্থাৎ ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত নয়—যা সাইবার হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা কমায় বলে দাবি নির্বাচন কমিশনের।
বিতর্ক ও প্রশ্ন: স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ
ইভিএম চালুর পর থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ সময়ে সময়ে এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ উঠেছে কারচুপি বা হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা নিয়ে। যদিও নির্বাচন কমিশন বারবার জানিয়েছে, ইভিএম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং এতে বাইরের হস্তক্ষেপ সম্ভব নয়।
ভিভিপ্যাটের আগমন: আস্থা বাড়ানোর চেষ্টা
এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় ভিভিপ্যাট (VVPAT) ব্যবহারের। এর ফলে ভোটাররা নিজেদের ভোট কাকে দিয়েছেন তা কয়েক সেকেন্ডের জন্য কাগজে দেখতে পান।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে দেশজুড়ে প্রতিটি ইভিএমের সঙ্গে ভিভিপ্যাট যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়। এতে স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট: প্রযুক্তি বনাম রাজনৈতিক বিতর্ক
বর্তমানে ইভিএম ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। দ্রুত, নির্ভুল এবং পরিবেশবান্ধব বলে এর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের একাংশ এখনও ব্যালট পেপারে ফেরার দাবি তোলে।






